• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

শিশুকে স্তন্যপানে কর্মজীবী মায়েরা যা করবেন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২২, ০২:১২ পিএম
শিশুকে স্তন্যপানে কর্মজীবী মায়েরা যা করবেন

চলছে বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ। মাতৃদুগ্ধের সচেতনতা বাড়াতে সপ্তাহব্যাপী পালিত হচ্ছে। ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সপ্তাহটি ৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। বিশেষ এই সপ্তাহে চলছে প্রচার প্রচারণা। চলছে মা ও পরিবারে শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দ্যোগ। স্তন্যপানের গুরুত্ব সম্পর্কে নানা তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে এই সপ্তাহজুড়ে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আধুনিক হচ্ছে। শিক্ষিত মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। অনেকেই এখন মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা জানে। উন্নত বিশ্বের কর্মজীবী মায়েরাও এখন শিশুর স্তন্যপানে অবহেলা করেন না। শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতে হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও স্তন্যপান নিয়ে সচেতন থাকেন। এতে মা ও শিশুর মানসিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। 

মাতৃদুগ্ধ সহজেই হজমযোগ্য। তাই জন্মের ৬ মাস পর্যন্ত এটি উত্কৃষ্ট খাবার। তাছাড়া শিশুর পরিপূর্ণ  বৃদ্ধি ও বিকাশেও সহায়ক এটি। মাতৃদুগ্ধ হালকা মিষ্টি ও উষ্ণ হয়। যা নবজাতক শিশুর নাজুক অবস্থার জন্য উপযোগী।

স্তন্যপান নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন কর্মজীবী মায়েরা। শিশুর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত স্তন্যপান করানো অনেক কর্মজীবী মায়ের পক্ষেই সম্ভব হয় না। আন্তরিক ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতিতে পরে অনেক মা শিশুকে বাইরের খাবার দিতে বাধ্য হোন। যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এমনকি মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 

দেশে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাচ্ছেন মায়েরা। তবে মাতৃকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার পর সন্তানকে কৃত্রিম খাবার বা বেবিফুড, গরুর দুধ বা পাউডার দুধের আশ্রয় নিতে হয়। এটিও শিশুর জন্য় উপকারী নয়। অনেক কর্মজীবী মা ব্রেস্ট পাম্পের মাধ্যমে মাতৃদুগ্ধ রেখে যান। এই পাম্পের সাহায্যে মাতৃদুগ্ধ সংগ্রহ করে যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ করা যায়। পরিবারের যে কেউ বোতলের মাধ্যমে শিশুকে তা খাওয়াতে পারেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিভিন্ন অফিস– আদালতে “শিশু যত্ন কেন্দ্র স্থাপন“ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬- এর সেকশন ৪৬ – ৫০ পর্যন্ত কর্মস্থলে মা ও শিশু দিবা-যত্ন বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে।

উক্ত সেকশন অনুযায়ী চাকুরীজীবী মায়েরা মাতৃ-কালীন ছুটি ৬ মাস পাবেন। ২০১২ সাল থেকে বেসরকারি চাকুরিজীবী মায়েরাও এই আইনের আওতাভুক্ত হন। 

এদিকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর সেকশন ৯৭(৭) অনুযায়ী বলা হয়, ‘শিশু দিবা যত্ন’ এর কক্ষগুলোকে উপযোগী সরঞ্জামাদি দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় বেডিংসহ একটি করে দোলনা রাখার কথাও বলা হয়েছে। তাছাড়া সন্তানকে স্তন্যপানের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে। দেশের অফিস ও কারখানায়ও ‘ব্রেস্টফিডিং কর্নার’ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এতকিছুর পরও কর্মজীবী মায়েদের মাতৃকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার পর শিশুকে স্তন্যপানে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এরজন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া বড় একটি কারণ। তবে শিশুর স্বাস্থ্য তো ঠিক রাখতে হবে। তাই শিশুকে স্তন্যপানে কর্মজীবী মায়েদের জন্য জরুরি কিছু উপায় জেনে রাখুন। 

মানসিক প্রস্তুতি

সন্তান জন্মদানের আগে মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। কোন কাজগুলো কীভাবে ম্যানেজ করবেন, তা ভেবে রাখুন। শিশুকে স্তন্যপান করানো জরুরি। সংকোচ কাটিয়ে সন্তানকে স্তন্যপান করান। 

পরিকল্পনা করে ছুটি নিন

সন্তানের জন্য যতদিন প্রয়োজন ততদিন ছুটি নিন। অফিসে অযথা ছুটি কাটাবেন না। বরং শিশু জন্মের পর বেশি ছুটি কাটানোর চেষ্টা করুন। 

পর্যাপ্ত সময় দিন

স্তন্যপানে মা ও শিশুর বন্ধন দৃঢ় হয়। অফিসের পর যেটুকু সময় পাচ্ছেন তা সন্তানকে দিন। ছুটির দিনে বাচ্চার সঙ্গেই কাটান। 

স্তন্যপানের গুরুত্ব জানুন

মাতৃত্বকালীন ছুটির পরও স্তন্যপান চালিয়ে যায়। ব্রেস্ট পাম্প করে মাতৃদুগ্ধ সংরক্ষণ করুন। তা সন্তানকে খাওয়ান। একেবারে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। যখনই সময় পাবেন শিশুকে স্তন্যপান করান। মায়ের শরীরে নিজে থেকেই দুগ্ধ উৎপাদন হয়। 

সময়মতো কাজ করুন

নিজের কাজ নিজেই করে নিন। সময়ের সঙ্গে দৌড়াতে হবে। আপনার ও শিশুর খাওয়াম ঘুম ঠিক রাখতে হবে। অফিসের পর বাড়ি ফিরুন। এরপর শিশুকেই বেশি সময় দিন।