অভিনয়শিল্পী যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর তিনি কোথায় আছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন কি না—এ বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনার মধ্যে তিনি নিয়মিত ফেসবুকে ভিডিও বার্তা ও পোস্ট দিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরছেন। গত শুক্রবার রাতেও তিনি ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন, যেখানে মন্তব্যের ঘর বন্ধ রাখা ছিল।
ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এই পোস্টটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পোস্টের শুরুতেই যাহের আলভী লিখেছেন, “এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট।”
তিনি জানান, আইনের প্রতি সম্মান রেখে সুষ্ঠু বিচারে আইন তাঁর বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্তই দিক না কেন, তিনি তা মেনে নেবেন। তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরতেই তিনি এই পোস্ট করেছেন।
পোস্টে যাহের আলভী দাবি করেন, তাঁদের বাসার ড্রইং-কাম-ডাইনিং এলাকায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যার নিয়ন্ত্রণ তাঁর কাছে ছিল না। সেটি ইকরার ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে সেই ফোনটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ওই সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগের কয়েক দিনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।
যাহের আলভীর দাবি, তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সন্ধ্যার পর ইকরার কয়েকজন বন্ধু বাসায় এসেছিলেন এবং সেই সময়ের বিভিন্ন ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় বাসায় আসা বন্ধুদের সঙ্গে ধূমপান, মদ্যপান ও মাদক সেবনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনার আগের দিন ইকরা তাঁর সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন। এসব তথ্য তাঁর সহকারী পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাহের আলভী বলেন, ওই তিন দিনের সিসিটিভি ফুটেজ যেন কোনোভাবেই মুছে না যায়। যদি ফুটেজ মুছে ফেলা হয়, তবে তা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
তিনি আরও জানান, নিজের মোবাইল ফোনও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য দিতে প্রস্তুত আছেন এবং সেখানে ইকরার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনে কোনো ধরনের পরিবর্তন করা হয়নি।
পোস্টের শেষ দিকে যাহের আলভী দাবি করেন, বিভিন্ন মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব এবং কর্মক্ষেত্রের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি বিপদে পড়তে পারেন। এমনকি তাঁকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাই জনগণ ও সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর আহ্বান—ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও প্রমাণ যেন সঠিকভাবে যাচাই করা হয় এবং সেগুলো যেন কোনোভাবে নষ্ট বা মুছে না যায়।
































