আজও অমলিন নায়ক মান্না


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
আজও অমলিন নায়ক মান্না

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক মান্নার প্রয়াণ দিবস আজ। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষবারের মতো বিদায় নেন। সময় গড়িয়ে বহু বছর পার হলেও দর্শকের হৃদয়ে তার অবস্থান আজও অটল পর্দায় তার উপস্থিতি দেখলে মনে হয়, তিনি এখনও আমাদের মাঝেই আছেন।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গায় জন্ম নেওয়া সৈয়দ মোহাম্মদ আসলাম তালুকদার অভিনয়কে স্বপ্ন হিসেবে বুকে লালন করতেন ছোটবেলা থেকেই। সেই স্বপ্নকে সত্যি করতে ১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তার রুপালি পর্দার যাত্রা। ‘কাসেম মালার প্রেম’ দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করে খুব দ্রুতই তিনি হয়ে ওঠেন বড় পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। ‘দাঙ্গা’ ও ‘ত্রাস’-এর মতো ছবিতে তার অভিনয় সাহসী চরিত্রকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

‘আম্মাজান’ ছবিতে তার অভিনয় আজও দর্শকের আবেগ ছুঁয়ে যায়। ‘কে আমার বাবা’ ‘লাল বাদশা’সহ একের পর এক সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যের মতোই আপন। ৩০০ র বেশি সিনেমায় কাজ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, নায়কত্ব শুধু পর্দায় নয় মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়াই সত্যিকারের নায়ক হওয়ার পরিচয়।

বাংলা সিনেমায় অশ্লীলতার স্রোত যখন প্রবল, তখন তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র’, যার মাধ্যমে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রে নতুন আশার আলো ফুটে ওঠে।

পুরস্কার ও সম্মাননা তার কর্মজীবনকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি এসেছে কোটি দর্শকের ভালোবাসা থেকে। তার সংলাপ, চোখের দৃঢ়তা, কণ্ঠের শক্তি আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

টাঙ্গাইলের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত এই মহানায়ক আসলে কোথাও হারিয়ে যাননি তিনি বেঁচে আছেন প্রতিটি ফ্রেমে, প্রতিটি সংলাপে, প্রতিটি দর্শকের স্মৃতিতে। মান্না শুধু একটি নাম নয়, একটি যুগ এক অমলিন অনুভূতি।

Link copied!