আফগানিস্তানে ওষুধের সংকট


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
আফগানিস্তানে ওষুধের সংকট

আফগানিস্তানের ওষুধের বাজার ব্যাপকভাবে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তালেবান সরকার। তাদের দাবি, এতে ওষুধের মান উন্নত হবে এবং দেশি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তবে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

গত নভেম্বরে তালেবান কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, ওষুধ আমদানিতে আমরা দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল। এ নির্ভরশীলতা শিগগিরই বন্ধ করা হবে। প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর তালেবান সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।


চলতি মাসে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এরপর আফগানিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাইয়ুম নাসির বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, পাকিস্তানের ‘বিকল্প ও বৈধ’ উৎস খুঁজে নিতে আমদানিকারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

চলতি চুক্তি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করতে আমদানিকারকদের তিন মাস সময় বেঁধে দিয়েছিল তালেবান সরকার। তা সত্ত্বেও তারা সব কাজ শেষ করতে পারেনি। এটি আফগানিস্তানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, দেশটিতে নিজেদের প্রয়োজনীয় ওষুধের অর্ধেকের বেশি আসে পাকিস্তান থেকে।

কাবুলের ফার্মাসিস্ট মুজিবুল্লাহ আফজালি বলেন, কিছু ওষুধের দাম বেড়েছে, কিছু মিলছে না। এতে সাধারণ মানুষের অনেক সমস্যা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে এখন ওষুধ অন্য উৎস থেকে আনতে হচ্ছে। ফলে পরিবহনের সময় ও খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যা জটিল হয়েছে।

ফার্মাসিস্ট মুজিবুল্লাহ জানান, তিনি এখন ইরান-সীমান্তের ইসলাম কালা ক্রসিং দিয়ে ওষুধ আমদানি শুরু করেছেন। ফলে পরিবহন খরচ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক ব্যক্তি এএফপিকে জানান, আগে ওষুধের মোট ব্যয়ের ৬ থেকে ৭ শতাংশ পরিবহন খরচের জন্য ধরা হতো। এখন তা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের মোট ক্ষতি এরই মধ্যে কয়েক লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ ব্যক্তি বলেন, আগে কোনো ওষুধ বাজারে কম পাওয়া গেলে পাকিস্তানে ফোন করলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আমাদের হাতে পৌঁছে যেত। বৈধ বা অবৈধ যে উপায়ে হোক না কেন, তা ‘দ্রুত সরবরাহ’ করা হতো বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ-ইরান-ভারতের দিকে চোখ
আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে ওষুধের বাজার ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান এএফপিকে বলেন, পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ওষুধ নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল—অধিকাংশ পণ্য নকল ও ভেজাল।

বাজার ঢেলে সাজানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করেন শরাফত জামান। তিনি জানান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, তুরস্ক, চীন ও বেলারুশ থেকে ওষুধ আমদানির লক্ষ্যে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

শরাফাত জামান বলেন, ‘পাকিস্তানের পর সবচেয়ে বেশি ওষুধ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। এর অর্থ হলো এখন প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি ভারত থেকে আমদানি বাড়িয়ে পূরণ করা সম্ভব।

আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ মুখপাত্র জানান, বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ৬০০ ধরনের ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে অনেক রোগীর প্রয়োজন ‘সমস্যার সমাধান’ করা সম্ভব হচ্ছে।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান মল্লি শিফা ফার্মাসিউটিক্যাল জানিয়েছে, আফগানিস্তানে এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সিরাম ও অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসার আহমদ তারাকি এএফপিকে জানান, তাঁরা প্রতিদিন এক লাখ বোতল

উৎপাদন করছেন। চাহিদা থাকলে উৎপাদনক্ষমতা দ্বিগুণ করা সম্ভব।

আফগানিস্তানের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত সম্প্রতি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে, তা সত্ত্বেও দেশি উৎপাদন এখন পর্যন্ত মোট চাহিদার ক্ষুদ্র একটি অংশ পূরণ করতে পারছে।

ওষুধশিল্প-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, কাঁচামালের আমদানি, বিদ্যুতের উচ্চ খরচ এবং সীমিত অবকাঠামোর কারণে আফগানিস্তান ওষুধে পুরোপুরি স্বনির্ভর হতে পারছে না।

এ কর্মকর্তার ভাষায়, ‘আমাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে পাকিস্তান পরিস্থিতির কারণে (ওষুধ আমদানি বন্ধ হওয়ায়) বাজারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করা সম্ভব হবে।’

Link copied!