নার্সেরা ফেসবুক চালায়, লুডু খেলে, অবহেলায় মরে দুই শিশু


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ০৭:২৩ পিএম
নার্সেরা ফেসবুক চালায়, লুডু খেলে, অবহেলায় মরে দুই শিশু

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নার্সদের অবহেলায় চিকিৎসা না পেয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্ব) দুপুরে শিশু দুটির মৃত্যুর পর স্বজনদের রোষানলে পড়েন হাসপাতালের নার্স ও কৃর্তপক্ষ।

নিহতের স্বজন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অন্য শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নার্সদের বারবার ডাকা হয়। কিন্তু তারা না আসায় চিকিৎসার অভাবে শিশু দুটি মারা যায়।

এ জন্য অভিযুক্ত নার্সদের শাস্তির দাবিও জানান তারা।

মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন কুড়িগ্রাম জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকার ছায়ানিপাড়ার দিলীপ চন্দ্র রায়ের মেয়ে এবং অন্যজন জেলার রাজীবপুর উপজেলার মরিচাকান্দি গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে। গত শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালেই তাদের দুইজনের জন্ম হয়।

দিলীপ চন্দ্র রায়ের দাবি, শনিবার তার স্ত্রী অঞ্জনা স্বাভাবিকভাবে মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু জন্মের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সদ্যজাত শিশুটি জন্মের সময় মাথায় আঘাত পেয়েছে। তাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়।

দিলীপ চন্দ্র রায় আরো অভিযোগ করে বলেন, “শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওষুধ আর স্যালাইন আনা হয়। কিন্তু নার্সদের সেটি জানানোর পরও তারা তাদের কক্ষ ছেড়ে উঠে আসেননি। বরং তারা বসে বসে ফেসবুক চালান আর লুডু খেলেন। এখনো সেই স্যালাইন পড়ে আছে। সোমবার দুপুরে আমার মেয়ের অক্সিজেনের লাইন খুলে গেলে সেটি লাগানোর জন্য বারবার নার্সদের অনুরোধ করি। কিন্তু তারা না এসে উল্টো আমাকে ধমক দেন। এর কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটা মারা যায়। নার্সদের অবহেলার কারণেই আমার মেয়ে মারা গেছে। ”

এদিকে ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম বলেন, “বাচ্চাকে চিকিৎসা সেবা আর ওষুধ দিতে ডাকলেও নার্সরা আসেন না। চিকিৎসার অভাবে কখন বাচ্চা মারা গেছে আমরা টেরও পাইনি। তারা (নার্সরা) মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে সারাদিন। রোগীর সেবায় তাদের কোনোই মনোযোগ নেই, উল্টো অনীহা আছে।”

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অন্যান্য শিশুর অভিভাবকরাও নার্সদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “নার্সরা সারাদিন তাদের রুমে বসে মোবাইল ফোনে লুডু খেলে। ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকে। কোনো রোগীর সমস্যা হলে সেটি নার্সদের জানাতে গেলে উল্টো অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। চিকিৎসা না দেওয়ারও হুমকি দেয়।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ কাকলী বেগম বলেন, “শিশু দুটির শারীরিক অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিল। তাই তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এখানে কর্তব্যরত নার্সদের কোনো অবহেলা নেই। তারপর শিশু দুটির স্বজনরা যেহেতু অভিযোগ করেছেন, তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করা হবে।”

কাকলী বেগম আরো জানান, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে রোগী ভর্তি আছে ১১৮ জন। কিন্তু ধারণ ক্ষমতা আছে ৪৮ জনের। রোগী অনুযায়ী নার্স সংকট থাকায় চিকিৎসা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ লিংকন বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমি শিশু ওয়ার্ডে গিয়েছি। শিশু দুটির শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্যও অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।”

নার্সদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ডা. লিংকন বলেন, “রোগীর স্বজনরা নার্সদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটিও করা হবে।”

Link copied!