• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

বুঝার উপায় নেই, রাস্তা না ক্ষেত 


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২১, ০৫:২৭ পিএম
বুঝার উপায় নেই, রাস্তা না ক্ষেত 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের ঢালিপাড়া সড়কটি বর্ষাকালে মানুষ চলাচলের রাস্তা কি না তা বুঝার কোনো উপায় নেই। এই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচল করতে অনেক কষ্টভোগ করতে হচ্ছে। 

বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান কাদায় মুড়িয়ে চলতে হয় এলাকাবাসীর।

মুরাদপুরের হাসনাবাদ গ্রামের গুরুত্বপুর্ণ এই রাস্তাটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর  ধরে সংস্কারবিহীন থাকায় বর্তমানে এ সড়কের বেহাল দশা। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংশ্লিষ্ট দফতরে এলাকাবাসী সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো হয়নি কাঙ্খিত সংস্কার কাজ। এভাবে বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও সড়কটির বিষয়ে এখনো দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী। বর্তমান সরকারের আমলে দেশে কাঁচা রাস্তা নেই বললেই চলে, বিশেষ করে সীতাকুণ্ডে।

ইতিমধ্যে দেশের অলিতে-গলিতে সরকারের উন্নয়ন ছোঁয়া পড়েছে। কিন্তু এই একটি একমাত্র মাটির সড়কটি যেন অভিভাবকহীন। বর্ষা আসলেই ওই এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দার চলাচলে পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে। রাস্তার অবস্থা দেখে মনে হয় এ যেন আদিম যুগে বসবাস।

সরেজামিন গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর রাস্তাটি কাদাতে ভরপুর যেন চাষের জমিতে পরিণত হয়েছে। অথচ এ সড়কেই প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ চলাচলা করেন। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান কাদায় মাড়িয়ে যাতায়াতে হয় নানা অসুবিধা। এভাবে হাঁটু সমান কাদা নিয়ে মধ্যবয়সীরা বহু কষ্টে চলাচল করলেও বৃদ্ধ এবং শিশুদের চলাচলে সীমাহীন কষ্টে পড়তে হয়। মুমূর্ষ রোগী হলে তো কষ্টের সীমা নেই।

এ পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের চলাফেরা চরম ঝুঁকিতে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় দৈনিক এই সড়ক দিয়ে কৃষকদের যেতে হচ্ছে ক্ষেত-খামারে এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষদের নানা কাজে রাস্তাটি ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া বহু বসত-বাড়ি থাকায় বিভিন্ন বয়সের মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে বাধ্য হয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। কিন্তু রাস্তাটির অতিরিক্ত কাদার কারণে চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে এলাকার হাজারো মানুষ।

এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার মো. আকবর হোসেন বলেন, হাসনাবাদ ঢালিপাড়া সড়কটির বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থা দেখছি। এই রাস্তায় অনেক মানুষ চলাচল করে থাকে কিন্তু অতিরিক্ত কাদার কারণে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। 

সম্প্রতি এলাকার যুবকদের ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেনের দৃষ্টি গোচর হয়।

শাহাদাত হোসেন রাস্তার নাজুক পরিস্থিতি দেখে মন্তব্যে লিখেন, “একটা রাস্তা এতো খারাপ হতে পারে না। আমি অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে একটা সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ।” 

স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহেদ হোসেন নিজামী বলেন, “কয়েকবার বরাদ্ধ চেয়ে আবেদন করছি, বরাদ্ধ পাইনি তাই কাজ হয়নি, বর্তমান এই সরকারের আমলে এমন রাস্তার এমন অবস্থা থাকা সত্যি লজ্জাকর, আমি চেষ্টা করবো রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের।” 
 

Link copied!