এক খোলা চিঠিতে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার ২৩ মিনিট পর সামাজিক মাধ্যমে আরও একটি পোস্ট দেন মেসি। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দুই মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। সেখানেই ফুটে উঠেছে ২১ বছরের ক্যারিয়ারের পথচলা।
ভিডিওটির ক্যাপশনে মেসি শুধু লিখেছেন ‘এআর’, সঙ্গে যোগ করেছেন একটি লাল ভালোবাসার ইমোজি। এইটুকুই যথেষ্ট ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই ফুটবলার, তারকা এবং লাখ লাখ ভক্তের ভালোবাসার বার্তা ও কৃতজ্ঞতায় ভরে যায় পোস্টটি।
সোলেদাদ পাস্তোরুত্তির বিখ্যাত স্প্যানিশ গান ‘ব্রিন্দিস’এর সুর দিয়ে শুরু হওয়া ভিডিওটিতে প্রথমে দেখা যায় ছোট মেসিকে, যিনি পরে আছেন সেই পাড়ার ক্লাবের জার্সি। এরপর দেখানো হয় একটি সাক্ষাৎকার, যেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘তোমার স্বপ্ন কী?’
মেসি ঠিক ম্যারাডোনার স্টাইলে বলেন, ‘আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা।’ পরের দৃশ্যেই ফুটে ওঠে আকাশী-সাদা জার্সিতে মেসি। তার স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে।
এরপর আসে জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির একের পর এক মুহূর্তের ছবি। গভীর মনোযোগ, গোল উদযাপন, প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে কাটিয়ে যাওয়া, মাথা নিচু করে থাকা, চোখে জল, কিংবা ম্যারাডোনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা... জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সিতে মেসির প্রতিটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
এরপর সোলেদাদের জোরালো কণ্ঠ সাময়িকভাবে থামিয়ে শোনা যায় মেসির নিজের কথা, ‘আমি আমার ফুটবল ক্যারিয়ার এমনভাবে শেষ করতে চাই যেন জাতীয় দলের হয়ে অন্তত কিছু জিততে পেরেছি। আর তা না হলেও, যতভাবে সম্ভব চেষ্টা করেছি এই তৃপ্তি নিয়ে শেষ করতে চাই। বারবার হোঁচট খাওয়া, আবার উঠে দাঁড়ানো এবং স্বপ্নের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া-কারণ এটাই জীবন।’
ভিডিওটির শেষ ভাগে দেখা যায় আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির জেতা সব ট্রফি উদযাপনের মুহূর্তগুলো। এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ২০২২ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাজপথে নেমে আসা লাখো মানুষের দৃশ্য, যারা একসুরে চিৎকার করে গাইছিলেন ‘মেসি, মেসি, মেসি’।
সোলেদাদ পাস্তোরুত্তির ‘ব্রিন্দিস’ গানটি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বার্তা প্রকাশের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের ঠিক এক মাস পর, মেসি ব্যাকগ্রাউন্ডে এই গানটি রেখেই একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। পরে‘ওলে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি ব্যাখ্যা করেছিলেন কেন গানটি তার এবং পুরো দলের কাছে এত বিশেষ।
মেসি কলেছিলেন, ‘কোপা আমেরিকার আগে আমরা বেশ কয়েকটি গান নিয়মিত শুনতাম যা আমাদের ভেতর একটা ভালো লাগা তৈরি করত। আমাদের কাছে সেগুলো খুব বিশেষ মুহূর্ত ছিল। কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপে সোলের গানটি সারাক্ষণ আমাদের সঙ্গে ছিল। আমার এবং পুরো দলের কাছে এই গানটি বিশেষ।’
২০০৬ সালে গ্রান রেক্স থিয়েটারে নিজের এক শো-তে ডিয়েগো ম্যারাডোনার জন্য ঠিক এই গানটিই গেয়েছিলেন সোলেদাদ। দুই মহাতারকা আজ বাঁধা পড়েছেন একটি গানে, যা আর্জেন্টাইন জাতীয় দলের এক অলিখিত জাতীয় সংগীত।


































