রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা পরিকল্পিত বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে গ্রেপ্তার দুই আসামির মধ্যে ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। এটিকে অস্বাভাবিক যোগাযোগ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানালেন, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস প্রতি ঘণ্টায় প্রায় একবার করে ফোনে কথা বলেছেন। এ ধরনের যোগাযোগের কারণে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে তার ভাষ্য।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তারা ৮-৯টি ইয়াবা সেবন করেছিলেন। পরে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও তারা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
শুরু থেকেই আসামিদের ইয়াবা সেবনের বিষয়টি সামনে আসলেও তাদের ডোপ টেস্ট করানো হয় হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন ও গ্রেপ্তারের প্রায় ৮ দিন পর। গতকাল সোমবার পুলিশ জানায়, মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের শরীরে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হক বলেন, ‘কারাগার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ৯ দিনের মাথায় ডোপ টেস্ট করানো হয়েছে। যারা মাদক সেবন করেন, তাদের প্রস্রাবে ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। আরও কম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করা হলে ভালো হতো। তবে পরীক্ষায় পজিটিভ পাওয়া যায়নি বলে তারা মাদকাসক্ত নন-এমনটা বলা যায় না। আবার এতদিন পর পরীক্ষা করায় তারা মাদকাসক্ত ছিলেন না, সেটিও বলা যাবে না।’
এদিকে, হত্যা মামলার দুই আসামির ডোপ টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসার খবরে মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তীসহ নিহত গণপতি চক্রবর্তীর স্বজনরা রংপুর মহানগর ডিবি কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান।
ডিবি কার্যালয় থেকে বের হয়ে গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারের পরপরই ডোপ টেস্ট করা উচিত ছিল। আট দিন পর ডোপ টেস্ট করায় এর ফলাফল নিয়ে আমাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক, ন্যায়বিচারই আমাদের প্রত্যাশা।
সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় আদালত তাদেরকে দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
গতকাল বিকালে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকার প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে। গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।



































