হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে হারের ক্ষত ভুলে লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনেই চালকের আসনে পাকিস্তান। পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলীর দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে প্রথম দিনে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে চেপে ধরেছে সফরকারীরা। আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৮ রান সংগ্রহ করেছে ইংল্যান্ড।
টসে জিতে মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি দুই পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলী। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই এমিলিও গে’কে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান আব্বাস। ঠিক ১০ বল পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের ৯০০তম শিকার ধরেন এই পেসার।
বেন ডাকেট এলবিডব্লিউর শিকার হলে আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। কিছুক্ষণ পর জো রুটকেও এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন আব্বাস। ফলে মাত্র ৩৬ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে ইংলিশরা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংসে বড় ধাক্কা দেন আব্বাস।
সকালের সেশনে সবচেয়ে নান্দনিক ও চোখ জুড়ানো ডেলিভারিটি করেন পেসার মোহাম্মদ আলী। দুর্দান্ত এক ইন-সুইং বা নিপ-ব্যাকারে প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান হ্যারি ব্রুকের ডিফেন্স ভেঙে স্টাম্প উড়িয়ে দেন তিনি। এরপর জর্ডান কক্স ও ড্যান লরেন্সের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও স্পিনার আলী উসমান রান আটকায়ে রেখে চাপ বজায় রাখেন।
লরেন্স রানআউট হয়ে ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন জেমস স্মিথ। কক্স ও স্মিথ মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ৬৭ রানের জুটি গড়ে দলের ইনিংস মেরামত করেন। জর্ডান কক্স ৫৫০ এবং জেমস স্মিথ ৬১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে চা-বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তান। খুররম শাহজাদের বলে স্লিপে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে কক্সের প্রতিরোধ ভাঙেন বদলি ফিল্ডার সালমান আঘা।
এরপর মোহাম্মদ আলী তার জাদু দেখিয়ে একে একে বোল্ড করেন ৬১ রান করা জেমস স্মিথ ও ওলিস রবিনসনকে। দিনের শেষভাগে জোফ্রা আর্চার কিছুড়ক্ষণ মারমুখী ব্যাট করে দ্রুত রান তুললেও আব্বাসের চতুর্থ শিকার হয়ে স্টাম্প হারান তিনি। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হওয়ায় ইংল্যান্ডের লেজের দিকটা ছেঁটে ফেলতে পারেনি পাকিস্তান।



































