লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে নতুন এক অধ্যায় শুরু হলো আর্জেন্টিনার। তাঁর বিদায় শুধু একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নয়; এটি আলবিসেলেস্তদের দীর্ঘদিনের খেলার কাঠামো ও নেতৃত্বের একটি বড় পরিবর্তন। তবে তাঁর জায়গায় সরাসরি কাউকে দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। বরং নতুন প্রজন্মের একাধিক খেলোয়াড়কে নিয়ে ভিন্ন একটি দল গড়ে তুলতে হবে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে।
এই পরিবর্তনে আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে অন্যতম নিকো পাস। ২১ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে ২০২৫-২৬ সিরি’এ মৌসুমে ৩৫ ম্যাচে ১২ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট করেছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা পাস মাদ্রিদের মূল দলেও খেলেছেন। পরে কোমোতে গিয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান এবং নিজের সৃজনশীলতা ও আক্রমণাত্মক দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো, প্রতিপক্ষের মিডফিল্ড ও রক্ষণভাগের মাঝের ফাঁকা জায়গায় বল নেওয়া এবং সেখান থেকে দ্রুত আক্রমণ তৈরি করা।
মেসির মতো পাসও আক্রমণাত্মক অঞ্চলে বল পায়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে তাঁকে নতুন মেসি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করাটা ভুল হবে। মেসির মতো দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ, গোল করা, সুযোগ তৈরি এবং দলের আক্রমণের কেন্দ্র হয়ে ওঠার অনন্য সামর্থ্য একসঙ্গে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
বরং আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সৃজনশীলতার দায়িত্ব একজনের কাঁধে না দিয়ে পুরো দলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া। মেসির সময়ে আক্রমণের বড় অংশ তাঁর ওপর নির্ভর করত। এবার পাসের পাশাপাশি অন্যান্য তরুণ মিডফিল্ডার ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দেরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।
এই জায়গাতেই স্কালোনির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মেসিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন দল পরিচালনা করার পর এখন তাঁকে নতুন ভারসাম্য খুঁজতে হবে। পাসকে এমন একটি কাঠামোর মধ্যে খেলানো যেতে পারে, যেখানে তাঁকে প্রতিটি আক্রমণের প্রধান কারিগর হতে হবে না। বরং তাঁর পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা আরও সমষ্টিগত আক্রমণ গড়ে তুলতে পারে।
বিশেষ করে রক্ষণভাগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাস আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারেন। ফাঁকা জায়গায় বল নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পর তিনি সামনে এগিয়ে যেতে পারেন, সতীর্থদের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলতে পারেন, থ্রু পাস দিতে পারেন কিংবা নিজেই শট নিতে পারেন। এসব গুণ আর্জেন্টিনার আক্রমণে নতুন বৈচিত্র্য যোগ করতে পারে।
তবে শুধু পাসের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। আর্জেন্টিনার হাতে এখনো যথেষ্ট প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। নতুন প্রজন্মের স্ট্রাইকার, মিডফিল্ডার ও উইঙ্গারদের সমন্বয়ে সৃজনশীলতার একটি নতুন কেন্দ্র গড়ে তোলাই হতে পারে স্কালোনির পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
সবচেয়ে বড় বিষয়, মেসির উত্তরসূরি হওয়ার চাপ থেকে পাসকে মুক্ত রাখতে হবে। ক্লাব ফুটবলে ভালো পারফরম্যান্স করলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রত্যাশা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মেসির সঙ্গে তুলনা শুরু হলে তাঁর স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
সাম্প্রতিক সাফল্য অবশ্য আশা দেখাবে আর্জেন্টিনাকে। মেসিকে ঘিরে গড়ে ওঠা দলটি ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে, তারা সময়ের সঙ্গে নিজেদের বদলাতে পারে। এবার সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে কঠিন ধাপ—দলের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়কে ছাড়া এগিয়ে যাওয়া।
মূল প্রতিবেদন: ফোর্বস


































