চুয়েট খুলছে বুধবার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
চুয়েট খুলছে বুধবার

টানা ৩৫ দিনের অচলাবস্থার পর বুধবার থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় একাডেমিক কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন। তবে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল রবিবার চুয়েট অডিটোরিয়ামে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় বুধবার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা যৌথ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বান জানান।

এর আগে রবিবার শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়ে ক্লাসে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। তবে চিঠিতে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নেতৃত্বের প্রতি স্বীকৃতি বা সম্মতি দেওয়ার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন তারা। একই সঙ্গে উপাচার্য পদে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের এক দফা দাবি থেকে সরে না আসার কথাও জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, ক্লাসে ফিরলেও তাদের আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে। নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে আবারও শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এদিকে চলমান সংকট নিরসনে বুধবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি। একই দিনে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা আছে।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুনের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা ক্যাম্পাস পরিদর্শন করবেন। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় করবেন তারা। সংকট নিরসন এবং দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আন্দোলনে যুক্ত হন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হয়।

Link copied!