টাইগার শ্রফের ওপর যেভাবে হামলা হলো


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
টাইগার শ্রফের ওপর যেভাবে হামলা হলো

হুমকি আসছিল আগে থেকেই, এবার সরাসরি প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলো বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর। গত রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহুতে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। টাইগার শ্রফ অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাঁর গাড়িচালক এবং এক কর্মী। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করার কারণে টাইগারকে নিশানা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জুহুর পুষ্পা পার্ক এলাকায়। সেখানে একটি সেলিব্রিটি ফুটবল ম্যাচ খেলে বের হচ্ছিলেন টাইগার শ্রফ। ম্যাচে অপারশক্তি খুরানা, অভিমন্যু দাসানি, অভিষেক বাজাজ ও করণবীর মেহরার মতো তারকারা অংশ নিয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সময় এলাকাটি ছিল বেশ জমজমাট। একদিকে নবরাত্রির বাজি ফাটছিল, অন্যদিকে চলছিল একটি জন্মদিনের পার্টি। প্রিয় তারকাদের একঝলক দেখতে ভক্তরাও ভিড় করেছিলেন। সেই সময় মোটরসাইকেলে করে তিন হামলাকারী সেখানে পৌঁছায়।

হামলাকারীদের একজন মোটরসাইকেলে বসে ছিল, বাকি দুজন অবস্থান নিয়েছিল গেটের কাছে। খেলা শেষ করে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে টাইগার শ্রফ গাড়িতে উঠতেই তিনি গাড়ির যে পাশে বসেছিলেন, ঠিক সেই দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে হামলাকারীরা। হামলার পর ঘাবড়ে না গিয়ে ড্রাইভারের আসনে বসেন টাইগার এবং দ্রুত গাড়ি চালিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিন হামলাকারী গুলি চালানোর পর এসভি রোড এবং ভিলে পার্লে রেলওয়ে স্টেশনের দিকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে মুম্বাই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ। হামলাকারীদের ধরতে গঠন করা হয় ১৫টি বিশেষ তদন্তকারী দল। এরই মধ্যে মুম্বাই ও রাজস্থান পুলিশের যৌথ গোয়েন্দা অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগে পুনে-জয়পুরগামী একটি ট্রেন থেকে তিন মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রাজস্থানের কোটা রেলওয়ে স্টেশনে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে হৃতিক কুমার (২২) বিহারের এবং রেহান (১৮) ও ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর হরিয়ানার বাসিন্দা। এর পাশাপাশি সান্তাক্রুজ ও মহারাষ্ট্র-গুজরাট সীমান্ত এলাকা থেকে আরও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

হামলার পরপরই ফেসবুকে অডিও বার্তার মাধ্যমে দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধু। তারা জানিয়েছে, সালমান খানের সঙ্গে কাজ না করার জন্য টাইগারকে আগে সতর্ক করা হয়েছিল। পোস্টে রীতিমতো হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘বলিউডের যে কেউ আমাদের কথা না শুনলে বা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করলে, তার পরিণতিও এমন হবে।’

নব্বইয়ের দশকের একটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলাকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দীর্ঘদিনের আক্রোশ রয়েছে সালমান খান ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ওপর। সেই সূত্র ধরে সালমানের ঘনিষ্ঠ তারকাদের নিশানা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টাইগার শ্রফের ওপর এই হামলা বলিউডে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ধারাবাহিক হুমকির নতুন সংযোজন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে সালমান খানের বান্দ্রার বাড়ির বাইরে গুলি করেছিল দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে পরিচালক রোহিত শেঠির বাড়ি এবং গত মাসে দিশা পাটানির বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে মহারাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডের পর বলিউডের নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, টাইগারের ওপর এই হামলা সেই আতঙ্ককে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

Link copied!