সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। আজ সোমবার ঘটেছে এসব হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা।
সৌদি জোটের দাবি, হামলায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দাবি করেছেন।
পাশাপাশি সৌদি আরবের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাম্পিং স্টেশন লক্ষ্য করে কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।
হুতিদের হামলার দাবির কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি জোট জানিয়েছিল, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
এর জবাবে ইয়েমেনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দুটি স্থানে হামলা চালানোর কথা জানায় সৌদি জোট।
হুতিরা এর আগেও গতকাল রবিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দাবি করেছিল। এ ছাড়া খামিস মুশাইত এলাকার কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং জাজানের একটি নৌঘাঁটিতে হামলার কথাও জানিয়েছিল তারা।
হুতিদের অভিযোগ, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট। এসব হামলা হোদেইদা, লাহিজ, আমরান, সাদা, আল-জাওফ, তাইজ ও ইব প্রদেশে হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
পৃথক আরেক ঘটনায় ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক অবস্থান ও অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুতিরা।
ইয়াহিয়া সারি এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন, এডেনের সালাহ আল-দিন এলাকা এবং লাহিজ প্রদেশের আল-ওয়াহাত এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে।
রিয়াদ অভিমুখে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কয়েক ঘণ্টা পর আসে এ দাবি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অবশ্য জানিয়েছে, রিয়াদমুখী ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয়েছে।
জোটটি বলছে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের অবকাঠামোয় হুতিদের হামলার পর হুমকির উৎস ধ্বংস করতে চালানো হয়েছে সামরিক অভিযান।
সৌদি জোটের দাবি, অভিযানে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখার পাঁচটি সুড়ঙ্গ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের চারটি প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের গুদামেও হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে জোটটি আরও জানিয়েছে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকার মধ্যে সরবরাহব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার ওপর অভিযানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানে হুতিদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল ও সামরিক সরঞ্জামও হামলার লক্ষ্য ছিল।
সূত্র : আল জাজিরা














