সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই: রংপুরে পথসভায় প্রধানমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই: রংপুরে পথসভায় প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের লক্ষ্যে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জের পাগলাপীরে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।

সড়কের দুই পাশে সমবেত হাজারো মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন। দেশ গড়ার কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতার কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে চাই। আপনারা কি আমার সঙ্গে আছেন?’ জবাবে উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে তাঁর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

পথসভায় বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকেই খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করা হয়েছে।’

তিনি তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে জানান, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে সকাল ৯টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামুসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

সৈয়দপুর থেকে সড়কপথে রংপুর যাওয়ার পথেই পাগলাপীরের পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। রংপুরে তাঁর রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং পূজার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে।

দিনব্যাপী এই সফরের অংশ হিসেবে রংপুর সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। সফর শেষে রাতেই তাঁর ঢাকায় ফেরার সূচি নির্ধারিত রয়েছে।

সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ অন্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সকালে ঢাকায় মহাখালী ও বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় তাঁর তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

উল্লেখ্য, আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উদ্‌যাপিত হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

Link copied!