• ঢাকা
  • বুধবার, ১২ জুন, ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫
সাড়ে ৩ ঘণ্টার বক্তব্য

যেসব সিদ্ধান্ত এলো ১৪ দলের বৈঠকে


সফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৪, ০৯:০২ পিএম
যেসব সিদ্ধান্ত এলো ১৪ দলের বৈঠকে
১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন জোট নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে আগামী দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বিএনপি-জামায়াতের যেকোনো নৈরাজ্য-সহিংসতা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জোট নেতারা। তবে জোটে নতুন কোনো দলের অন্তর্ভুক্তি মেনে নেওয়া হবে না বলে জোট নেত্রীকে জানিয়েছেন তারা।

তবে বৈঠকে বিগত সময়ে অবমূল্যায়নের নানা অভিযোগ উঠে এসেছে জোট নেত্রীর কাছে। পরে অসাম্প্রদায়িক মানবতা বোধকে এগিয়ে নিতে ১৪ দলকে আরও সংগঠিত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন ১৪ দলের নেতারা। জোটের প্রাসঙ্গিকতা, বিগত নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে পুরোটা সময় ধরে নেতাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।

বৈঠক শেষে গণভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন জোট নেতারা। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এবং সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের কয়েক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

জোট নেতারা বলেন, ১৪ দলের প্রাসঙ্গিকতা এখনও বিদ্যমান। তারা জোটের প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে দুঃসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে জনগণের দুর্ভোগ, অর্থনৈতিক সংকট, ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি-লুটপাটসহ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ জানিয়ে এসব সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতেও প্রধানমন্ত্রীকে তাগিদ দিয়েছেন।

গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে শরিকদের প্রতি অবহেলা ও অবমূল্যায়নের অভিযোগও উঠে আসে কোনো কোনো নেতার বক্তব্যে। তবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ১৪ দলকে আরও সংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৪ দলের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, এ বৈঠকের পর সেটা থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গণভবনে ১৪ দলের এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জোটনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জোট শরিকদের নিজ নিজ দলকে আরও সংগঠিত এবং জনগণের কাছে নিজেদের জনপ্রিয় করে তোলার আহ্বান জানান। শরিক দলগুলোকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে বলেছেন। সেই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনীতি এবং মানবতাবোধকে এগিয়ে নিতে বলেন।

বৈঠকের শুরুতেই শরিক দলগুলোর পক্ষে মূল বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী অপশক্তি মোকাবিলায় ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা এখনও রয়েছে। সেই বিবেচনায় ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন। কিন্তু গত নির্বাচনসহ অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ১৪ দলের প্রতি আওয়ামী লীগ কিংবা প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন সেভাবে পাইনি।

রাশেদ খান মেনন অভিযোগ করেন, দ্বাদশ নির্বাচনে জোটের নেতাদের হারিয়ে দিয়েছে খোদ আওয়ামী লীগ নেতারা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট, বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি-লুটপাট বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেনন বলেন, এগুলো নিরসন করা না গেলে উন্নয়ন ও সফলতা ম্লান হয়ে যাবে।

এরপর দেয়া বক্তব্যে জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, আজকের বৈঠকে অনেক কথা বলার ছিল। কিন্তু এখানে এসব কথা বলা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ পেলে তার কাছেই সব কথা বলতে পারব। এখনও দেশ চক্রান্তের ভেতর আছে। সাংবিধানিক সরকারকে উচ্ছেদের চক্রান্ত আছে।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া ১৪ দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ১৪ দলকে কাজে লাগাতে হবে। নতুবা জঙ্গিবাদী শক্তিকে রুখতে পারবেন না। জোটের আরেক শরিক তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, জোটকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

বৈঠকে কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসিত বরণ রায় বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শকে ধারণ করি।

১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেস্টা পরিসদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ১৪ দল আছে, থাকবে। শরিকদেরও নিজ নিজ দলকে সুসংগঠিত রাখতে হবে। দেশি-বিদেশি সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে।

বৈঠকে সিপিবিসহ বাম দলগুলোর কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, এখানে যারা প্রগতিশীল, সেই সিপিবি ও সেলিম ভাইও (মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম) আমাকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী বলেন। তারাও এখন ডানপন্থি হয়ে গেছেন। তারা আমাকে উৎখাত করতে চান।

Link copied!