ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরাজয়। বিশেষ করে নিজ নিজ দলের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক, জিএম কাদের, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং মজিবুর রহমান মঞ্জু।
মাওলানা মামুনুল হকের পরাজয়
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির ববি হাজ্জাজের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। বিএনপির ববি হাজ্জাজ ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট পেয়ে ঢাকা-১৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক রিকশা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি।
জিএম কাদের তৃতীয় স্থানে
দুর্গ খ্যাত রংপুরে এবার একটি আসনও পায়নি জাতীয় পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ আসনে তৃতীয় হয়েছেন। এমন পরাজয় জাতীয় পার্টির অস্তিত্বের সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে। রংপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবার রহমান বেলাল এক লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান সামু ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন। জিএম কাদের তৃতীয় স্থানে ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়েছেন।
মাহমুদুর রহমান মান্নার জামানত বাজেয়াপ্ত
বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত তিনি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। কেটলি প্রতীকে মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন তিনি। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট পেয়েছেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জুর পরাজয়
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ফেনী-২ আসনে নির্বাচন করে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন। ফেনী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জু ঈগল প্রতীকে ৮০ হাজার ৫৮ ভোট পেয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রধানদের পরাজয়ের ফলে তৃণমূল থেকে দল পুনর্গঠন এবং নেতৃত্বের পরিবর্তনের দাবি উঠতে পারে।































