• ঢাকা
  • শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১, ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনে চমক দেখাবে আওয়ামী লীগ


সফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩, ১২:৩০ পিএম
একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনে চমক দেখাবে আওয়ামী লীগ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন মাস (অক্টোবর মাসে) আগে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশবাসীকে চমক দেখাবে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে উদ্বোধনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা রেলসেতুসহ একগুচ্ছ প্রকল্প। তবে উদ্বোধন হতে যাওয়া এসব প্রকল্প চালু হওয়াকে নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বলে দাবি করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। শুধু তা-ই নয়, এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকে তারা দেখছেন দ্বাদশ নির্বাচনে বিজয়ের ট্রাম্প কার্ড হিসেবেও।

জানা গেছে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে থাকবে মোট ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ। ১৫টি সেলফ সার্ভিসসহ বহির্গমনের জন্য থাকবে মোট ১১৫টি চেক ইন কাউন্টার। এ ছাড়া থাকবে ১৬টি ব্যাগেজ বেল্ট। ৭ অক্টোবর এই টার্মিনালের সফট লঞ্চিং বা আংশিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে। আরেক মেগা প্রকল্প পদ্মা রেলসেতু। অপেক্ষা ফুরোচ্ছে দক্ষিণের ট্রেন যাত্রীদের। এই রেলসেতুতে পাথরবিহীন রেললাইন প্রস্তুত। ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে এই লাইন দিয়ে ছুটবে ট্রেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করবেন ১০ অক্টোবর। পদ্মা সেতুর মতোই এটির উদ্বোধনও হবে জমকালো।

উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম ধাপের পর এবার শুরু হচ্ছে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল চলাচল। এর মধ্য দিয়ে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো পথে মেট্রো সুবিধা পেতে যাচ্ছেন নগরবাসী। উত্তরা থেকে মাত্র ৪০ মিনিটেই মতিঝিল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাবেন যাত্রীরা। আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল বা কর্ণফুলী টানেল। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশের ১৮ দশমিক ৩১ মিটার গভীরে দেশের প্রথম এই টানেলটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলাকে যুক্ত করবে টানেলটি। টানেলের ভেতর থাকছে ৪ লেনের সড়ক। এটি কেবল কর্ণফুলীর দুই পাড়কে যুক্ত করছে না বরং এর মাধ্যমে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ওয়ান সিটি টু টাউনের মডেলে গড়ে উঠবে শহর। ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর এটির উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

এ ছাড়াও রাজধানীর পূর্বাচলে দেশের প্রথম ১৪ লেনের মহাসড়ক। যার ৮টি এক্সপ্রেসওয়ে। এটিকে বলা হচ্ছে ঢাকার নতুন গেটওয়ে। নান্দনিক এই সড়ক ধরে তৈরি হচ্ছে নতুন স্যাটেলাইট নগর। নির্বাচনের আগে প্রকল্পগুলো উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তি জানান দিতে চায় ক্ষমতাসীন দলর আওয়ামী লীগ।

আপাতত বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। মূলত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কিভাবে সুষ্ঠু করা যায় সেটিই তাদের প্রধান ভাবনা বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, ৭০ এর নির্বাচনে নৌকা যেমন ছিলো স্বাধীনতার প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক। এবার নৌকার প্রতীক হলো উন্নয়ন, অগ্রগতি, শান্তির ও শেখ হাসিনার প্রতীক। জনকল্যাণে নেওয়া এসব প্রকল্পের বিষয়ে জনগণকে জানাতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোও সারা দেশে আলাদা জনসভা করবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, “আমরা যতদূর জানি, জননেত্রী শেখ হাসিনা অক্টোবর মাসে তিনটি বিভাগে তিনটি সমাবেশ করবেন। এর মধ্যে দিয়ে নির্বাচনমুখী জনগণকে আমরা নির্বাচনের দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবো।”

একই সুরে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। তিনি বলেন, “এ ধরনের মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন জাতির একটা উৎসবের বিষয়। এ কারণে আমরা প্রথাগত যে আনুষ্ঠানিকতা থাকে তার বাইরেও ব্যাপক সমাগমের মধ্য দিয়ে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই।”

Link copied!