অবৈধ ওয়াকিটকি বিক্রি করতেন তারা


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২১, ০১:৪০ পিএম
অবৈধ ওয়াকিটকি বিক্রি করতেন তারা

অবৈধভাবে ওয়াকিটকি আমদানি, মজুত, প্রদর্শন, বিক্রি ও ইজারা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। চক্রটি গত এক বছরে অবৈধভাবে এক হাজার ১৫০টি ওয়াকিটকি বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে।

রোববার (৩১ অক্টোবর) কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান।

এর আগে শনিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর সায়দাবাদ, মনিপুরীপাড়া, রাজারবাগ ও শেওড়াপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১০। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ৩১৭টি ওয়াকিটকি, ১১৬টি মোবাইল ফোন ও ওয়াকিটকি তৈরির বিভিন্ন প্রকার পাঁচ হাজার ২৪৪টি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন মেহেদী হাসান (২৭), মো. সাদিক হাসান (২৬), মো. ফয়সাল (২৩), তালিবুর রহমান (২৪) ও মো. ফারুক হাসান (৫৯)। অভিযানের সময় গোলাম মোহাম্মদ ফেরদৌস নামের চক্রটির আরেক সদস্য পালিয়ে যায়। যার বাসা থেকেই জব্দ করা হয় ৬৩টি ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি।

র‌্যাব জানায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (বিটিআরসি) আইন ২০০১ এর ৫৫(৭) ধারা মোতাবেক ওয়াকিটকি ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স বা তরঙ্গ গ্রহণ করতে হয়। এছাড়া ওয়াকিটকি আমদানির আগে বিটিআরসি থেকে অনাপত্তি গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চক্রটি বিটিআরসির অনাপত্তি ও লাইসেন্স না নিয়ে এক বছর ধরে চট্টগ্রামের কতিপয় ব্যক্তির মাধ্যমে ওয়াকিটকি আমদানি করেছে এবং সেগুলো প্রদর্শন ও বিক্রি করেছে।

র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা এক বছরে এক হাজার ১৫০টি ওয়াকিটকি অবৈধভাবে বিক্রি ও ইজারা দিয়েছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারিয়েছে তেমনি দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্যও এটি হুমকিস্বরূপ। কারণ চক্রটি কালো রঙের ওয়াকিটকি বিক্রি করতো, যা শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। এসব কালো রঙের ওয়াকিটকি ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধী চক্র ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এছাড়া চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


 

Link copied!