জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৮ তম জন্মদিনে “শেখ রাসেল দিবস ২০২১” উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব জনাব মো. আসাদুজ্জামান।
এ সময় আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি, বিশেষ অতিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও সংবাদ প্রকাশের সম্পাদক সেলিনা হোসেন।
অনুষ্ঠানে শিশু বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুষ্পিতা ব্যাপারী ও তাহফিম জুনাইরা আনসি।
‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’- এ প্রতিপাদ্য নিয়ে ১৮ অক্টোবর প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে দেশব্যাপী যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২১’।
অনুষ্ঠানে শেখ রাসেলকে স্মরণ করে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, “রাসেলের চেতনায় আমরা মুক্তিযুদ্ধের আকার দেখতে পাই। তার গায়ে কালো পিঁপড়া কামড়ালে সে ভুট্টো বলে ডাকতো আর ইয়াহিয়া খান ছিল তার কাছে পথের কুকুর।”
সেলিনা হোসেন আরও বলেন, “শিশু অধিকারের বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে। শিশু অধিকার যেন নিশ্চিত করা হয় সে বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে হবে। তাহলেই আমরা শেখ রাসেলকে আমাদের চেতনায় ধারণ করতে পারব। আমরা সৎ ভাবে আমাদের শিশুদের বড় হওয়ার সুযোগ করে দেব।”
অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন বলেন, “শেখ রাসেলের পারিবারিক শিক্ষা ছিল অসাধারণ। তার পরিবার তাকে শিখিয়েছিল জেলখানা শেখ রাসেলের বাবার বাড়ি। এজন্য শেখ রাসেল জেলখানাকে কখনও ভয় পেত না। বরং শেখ রাসেল বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেই জেলখানায় বাবার সঙ্গে দেখা করতে যেত।”
জাতির সমৃদ্ধিতে আশাবাদ ব্যক্ত করে সাবিহা পারভীন আরও বলেন, “এক রাসেল লোকান্তরে লক্ষ রাসেল ঘরে ঘরে এই প্রত্যয়ে আমাদের শিশুদের গড়ে তুলতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, “শেখ রাসেলের ভেতরে প্রতিবাদী একটা মনোভাব ছিল। জন্মগত ভাবেই শেখ রাসেল নেতৃত্বে, প্রতিবাদে ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে উঠছিল। শেখ রাসেলের মধ্যে মূলত জাতির পিতার মুখচ্ছবিই ফুঁটে উঠেছে। এই দিনটি শুধু উদযাপনের নয়। প্রতিটি মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা উদ্বুদ্ধ করা এ দিনের লক্ষ্য।”



































