সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়েছে। আজ নবমীর উৎসব চলছে। ঢাক-ঢোলের সঙ্গে নাঁচ, নানা উদযাপনে কাটছে প্রতিটি দিন। বাধ ভাঙা খুশিতে বুদ হয়ে আছে পরিবারের সবাই। নবমীর দিনে উৎসব আমেজ যেমন, তেমনি বাজবে বিদায়ের সুর। একদিন পেরিয়ে দশমীতে বিদায় নিবে দেবীদুর্গা।
দুর্গাপূজার অন্তিম দিনে আনন্দ তাই এতটুকু কমতি হবে না। প্রভাতের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আরম্ভ হয়ে গেছে পূজার প্রারম্ভিক কাজ। এই দিন পোশাক আর সাজেও হতে হবে মনমতো।
দুর্গা পুজোর নবমীর সাজে কিছু ভিন্নতা থাকে। নবমী মূলত পূজার প্রায় শেষ দিকে তাই এই দিনে নিজেকে করে তুলতে হবে আকর্ষনীয়। সকালে নিজেকে কিছুটা ন্যাচারাল লুকে রাখুন। আর সন্ধ্যের সাজটা হবে একদম জমকালো। সকালে মণ্ডপে যাওয়া এবং অঞ্জলি দেওয়ার সময় সাজে আপনি থাকবেন স্নিগ্ধ।
নবমীর সাজে সকালের দিকে হালকা রঙের বা উজ্জ্বল রঙের শাড়ি পরতে পারেন। সঙ্গে থাকবে মানানসই ব্লাউজ। এ সময় কাপড়ের তালিকায় সুতি, লিনেন, খাদি বা হ্যান্ডলুম রাখতে পারেন। এতে করে এই তীব্র গরমে কিছুটা স্বস্তি পাবেন। শাড়ি পরতে না চাইলে কামিজ, কুর্তি অথবা লং গাউনও পড়তে পারেন সকালে।
মনে রাখবেন সকালের সাজ বা মেকআপ কিন্তু চড়া হবে না। মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে ফাউন্ডেশন মিক্স করে ভালো ভাবে ব্লেন্ড করে নিয়ে লুস পাউডার দিয়ে মেকআপ সেট করে নিন। চোখে লাগাতে পারেন গাঢ় কাজল। পূজার সাজে কাজল অনেক বেশি মানায়। গালে হালকা করে পিচ ব্লাশন লাগাতে পারেন আর ঠোঁটে লাগান গোলাপি অথবা পোশাকের রঙের সঙ্গে ম্যাচ করা লিপস্টিক।
এবার আসুন নবমীর সন্ধ্যার সাজে। সন্ধ্যার পরই মন্দিরে যাবেন। তাই ভারী গহণা, উজ্জ্বল রঙের পোশাক, ভারী মেকআপ, তাজা ফুল সবই এদিনের সাজের উপকরণ হবে আপনার। সিল্কের, কাতান অথবা শিফনের শাড়ি নবমীর রাতে বেশ মানায়। আপনার পছন্দ অনুযায়ী একটা বেছে নিন।
মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার ও প্রাইমার লাগিয়ে ৪-৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর মুখে ফাউন্ডেশন ও কনসিলার দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিয়ে লুস পাউডার দিয়ে মেকআপ সেট করে নিন। প্রয়োজন হলে একটু কন্টরিং করে নিন যাতে মুখের ফিচারগুলো ভালোভাবে বোঝা যায়। মুখে ফাউন্ডেশন দেওয়ার সময় সামান্য ফাউন্ডেশন গলায় লাগিয়ে বেন্ড করে নিবেন।
তারপর পেনসিল দিয়ে আইব্রো এঁকে নিন। এবার ডার্ক ব্রাউন কালার আইব্রোশ্যাডো দিয়ে আইব্রো শেইপ করে নিন। চোখের ওপর গাঢ় আইশ্যাডো বেশ ভালো লাগবে সান্ধ্য-পূজায়। এর ওপর গ্লিটারি আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। তারপর সুন্দর করে আইলাইনার ও মাসকারা লাগিয়ে নিন। গালে গোলাপি ব্লাশন লাগান। গোলাপি ব্লাশ অন রাতে বেশি ভালোলাগে। গোল্ডেন হাইলাইটার দিয়ে চিকবোন আর নাক একটু হাইলাইট করুন।
এবারে পোশাকের রঙের সঙ্গে মানানসই লিপস্টিক পরে নিন। চাইলে পায়ে আলতা পরতে পারেন। গহণায় বেছে নিন রুপা বা গোল্ড প্লেটের স্টোন বসানো ভারী গহনা। একপাশে সিঁথি টেনে এলোখোঁপা মানিয়ে যাবে, তাতে পাথরের অনুষঙ্গ জমকালো ভাব যোগ করবে আরো। হাতে ও চুলে তাজা ফুলের মালা নবমীর সাজে দারুণ মানানসই।
ছেলেদের ক্ষেত্রেও সাজ আর পোশাক নির্বাচনে থাকবে বিভিন্নতা। এমন একটা সাজ হতে হবে যেটা দেখতে সাধারণ লাগলেও আপনাকে দেখাবে সব থেকে আলাদা। যা পরলে আপনার সামনের মানুষটা অনেকদিন পর্যন্ত এর রেশটা মনে রাখতে পারে ৷ ড্রিপড কুর্তা পরুন ৷ তার উপরে একটু জমকালো কাজ করা জ্যাকেট পরতে পারেন ৷ ওপেন জ্যাকেটও হতে পারে ৷ পোশাকের রঙ নির্বাচনে হতে হবে সচেতন। এ বছর লাল, নীল বা ঝকঝকে রং এক্কেবারে আউট অফ ফ্যাশন ৷ তার জায়গায় কিছু প্যাস্টেল রঙ বেছে নিতে পারেন।







































