যুগ যুগ ধরে মানুষ বিশ্বাস করে আসছে, ঘর হলো এমন একটি প্রশান্তির জায়গা যেখানে মানুষ সবচেয়ে বেশি শান্ত থাকতে পারে। সবচেয়ে আরামে থাকতে পারে। আমাদের দিনের শুরু ও শেষ হয় এখানেই। তাই সারাদিনের নানারকম ঝামেলা শেষে যে ঘরে আমরা থাকি সেটি হতে হবে যথাযথ পরিপাটি ও ছিমছাম। শোবার ঘরের সাজে শৌখিনতা আর আভিজাত্যের চেয়ে আরামের বিষয়টিই যেন প্রাধান্য পায় বেশি, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। তাই বয়সভেদে শোবার ঘরের অন্দরসজ্জায়ও এসে গেছে পরিবর্তন আনা দরকার। সব বয়সের রুচি এবং প্রয়োজন মিলিয়ে ঘরের ব্যক্তিত্বও যেন হয় আলাদা আলাদা।
প্রবীণদের ঘর
২৫ থেকে ৩৬ ইঞ্চি উচ্চতার একটি লম্বা বিছানা রাখতে হবে। একটি সামঞ্জস্যযোগ্য বিছানা উপযুক্ত হতে পারে, বিশেষ করে যখন সিনিয়র ব্যক্তি মাথা বা পা উঁচু করে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ঘরটি খোলামেলা রাখা উচিত। বেশি আসবাব ও অন্য জিনিস না রাখাই ভালো। এতে তাঁদের ঘরে চলাফেরা করতে সুবিধা হবে। খাটের পাশে থাকা বেডসাইড টেবিল বয়োবৃদ্ধদের জন্য বেশ প্রয়োজনীয়। ওষুধ, পান-জর্দা কিংবা নিত্য দরকারি পথ্য রাখার জন্য বেডসাইড টেবিল ব্যবহার করতে পারেন। আলমারি উচ্চতাও যেন তাঁদের সুবিধামতো হয়। অবসর সময়ে যে বইগুলো পড়েন, সেগুলোর জন্য ঘরে বুকশেলফ থাকতে পারে। বয়োবৃদ্ধদের ইজি বা রকিং—দুই ধরনের চেয়ারই উপযোগী। দেওয়াল সাদা বা যে কোনো হালকা রঙের হলে ভালো। কৃত্রিম আলোর ক্ষেত্রেও বেছে নিন সাদা।
দম্পতির শোবার ঘর
একটি বড় আকারের খাট বা বিছানা থাকতে পারে শোবার ঘরে। রুমের এক পাশে ড্রেসিং টেবিল, জানালার পাশে কফি টেবিল বা স্টাডি টেবিল, আলমারি থাকুক। ঘরে আলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নরম এবং মৃদু আলো রোম্যান্টিক অনুভূতি দেওয়ার একটি দুর্দান্ত উপাদান। তাই হালকা আলো ব্যবহার করুন। হলুদ, আকাশী এবং বাদামির রঙের গভীর শেডগুলি বেডরুমে রোমান্টিক আবেশ ছড়ায়। মূল আলোর সঙ্গে বড় একটি ল্যাম্পশেড রাখতে পারেন। এ ছাড়া ঘরের একটি কোণে আড্ডা দেওয়ার জন্য চেয়ার থাকতে পারে।
কিশোর-কিশোরীর ঘর
কিশোর-কিশোরীর চিন্তাভাবনা একেবারেই আলাদা। নিজেদের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জগৎ তৈরি করে রাখে তারা। তাদের ঘরটি সম্পূর্ণ তাদের পছন্দ এবং প্রয়োজনমতো সাজানো গেলেই ভালো। এই বয়সীদের থেকে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়েদের পোশাক একটু যেন বেশিই থাকে। তাই একটি বিছানার পর যে জিনিসটি প্রয়োজন, তা হলো প্রচুর জিনিস রাখার জায়গা। দেওয়ালের সঙ্গে লাগোয়া বড় আলমারি সব থেকে ভালো কাজে দেবে এ সময়। এ ছাড়া ড্রেসিং টেবিল, পড়ার অথবা কম্পিউটার টেবিলের প্রয়োজন হয়।
ঘরের একটি দেয়ালজুড়ে একই সঙ্গে আলমারি, ড্রেসিং টেবিল এবং স্টাডি টেবিল সেট কিনতে পাওয়া যায়। জায়গার স্বল্পতা থাকলে বহু কাজে ব্যবহার করা যায় (মাল্টিপারপাস) ধরনের আসবাব ভালো হবে। কিশোর হোক কিংবা কিশোরী, এই বয়সে বন্ধুরা আসে বাড়িতে। তাই শোবার ঘরে দুটো সোফা, ডিভান বা নিচু উচ্চতার বসার জায়গার ব্যবস্থা থাকা ভালো। রঙের ক্ষেত্রে পুরোটাই তাদের পছন্দে করা উচিত। কারও উজ্জ্বল রং, আবার কারও হালকা রং পছন্দ হতে পারে।
শিশুদের ঘর
বাচ্চাদের ঘরের আসবাবের মধ্যে আছে বিছানা, পড়ার টেবিল, খেলনা, কাপড় ইত্যাদি রাখার জন্য ওয়ারড্রব বা স্টোরেজ ইউনিট, বইপত্র রাখার জন্য শেলফ। বাচ্চাদের ঘরে যতটুকু সম্ভব খোলামেলা রাখার চেষ্টা করা উচিত। বাজারে এমন অনেক আসবাব পাওয়া যায়, যা একসঙ্গে অনেক কাজে ব্যবহার করা যায়। একের অধিক শিশু যদি একই ঘর ভাগ করে থাকে, তাহলে বাঙ্ক বেড কার্যকর ও যুগোপযোগী একটি সমাধান। ছবি আঁকতে ভালোবাসে, এমন শিশুর জন্য ঘরে রাখুন ছবি আঁকার একটি কোণ বা দেয়ালে রাখুন বোর্ড বা ক্যানভাস। আবার গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে এমন শিশুর ঘরে রাখুন আরামদায়ক রিডিং কুশন, চেয়ার বা বিন ব্যাগ। ঘরের এক কোণে খেলার তাঁবু, খেলার জায়গা ইত্যাদি রাখতে পারেন, যদি জায়গা থাকে। দেওয়ালে থাকল রঙিন কাগজের ঝালর, প্রিয় কার্টুনের শতরঞ্জির ওপর সাজিয়ে দিতে পারেন প্রিয় সব পুতুল। শিশুর ঘরের দেয়ালে সাধারণত হলুদ, গোলাপি, কমলা, নীল এসব রং ব্যবহার করা হয়। শুধু দেওয়ালেই নয়, ছাদও হতে পারে ক্যানভাস। সে ক্ষেত্রে বিছানার ওপর সিলিংটি বেছে নিন। সিলিং জুড়ে থাকতে পারে নক্ষত্রপুঞ্জের চিত্র। নক্ষত্রপুঞ্জে বসিয়ে দিন রেডিয়ামের গ্রহ-নক্ষত্রের স্টিকার।








































