রাত ১১টা। আব্দুল্লাহপুর বিআরটি স্টেশনের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন আসিফ নামের এক পথচারী। হঠাৎ পথরোধ করে দাঁড়ায় কয়েকজন ছিনতাইকারী।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে তারা। কয়েকদিন আগের এ ঘটনার মতো স্টেশনের সিঁড়িতে ছিনতাই এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশও অবগত।
বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর সড়কে নির্মিত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের স্টেশনগুলো এখন অনেকটাই অব্যবহৃত। নানা জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগে মূল প্রকল্পের কার্যক্রম থমকে গেলেও নির্মিত সড়ক ও ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে যান চলাচল করছে। তবে স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামার ব্যবস্থা না থাকায় তৈরি হয়েছে নতুন ভোগান্তি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছিনতাই ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ।
সরজমিনে দেখা যায়, স্টেশনগুলোর বেশির ভাগ স্থানই অরক্ষিত। কোথাও ভাসমান মানুষের আস্তানা, কোথাও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। অনেক স্থানে মাদকসেবীদের আড্ডাও বসছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব এলাকা আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্টেশনগুলো যাত্রীসেবার বদলে এখন নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আব্দুল্লাহপুরের বিআরটি স্টেশনে প্রায় ৬৮টি ধাপ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। বয়স্ক, নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। ফলে সন্ধ্যার পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্টেশনগুলোর সঙ্গে যুক্ত ফুট ওভারব্রিজ ও সিঁড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নাজুক। অনেক জায়গায় রেলিং নেই। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা আধুনিক লিফট ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। চালুর উদ্যোগ না থাকায় এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি এসব সম্পদ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো জনগণের কাজে না এলে এর দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। তাই স্টেশনগুলো ব্যবহারযোগ্য রাখার পাশাপাশি দ্রুত আলোর ব্যবস্থা ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনাও জোন পুলিশের নির্দেশনায় রয়েছে।
সীমানাসংলগ্ন টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘ছিনতাই রোধে নিয়মিত অভিযান চলছে। সম্প্রতি কয়েকজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। অচিরেই পুরো এলাকাকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হবে।’
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্পের সার্বিক সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলেই সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া এমন বৃহৎ প্রকল্প ফেলে রাখায় নাগরিকদের ভোগান্তির পাশাপাশি তাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। দ্রুত স্টেশনগুলো সচল, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য করার উদ্যোগ না নিলে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি জননিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়বে।
বর্ণিক বার্তা



































