বাবার মৃত্যুতে কর্মীকে ৩০ দিনের ছুটি, চিকিৎসা বিলও দিল প্রতিষ্ঠান পোস্টটি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মনে দাগ কাটে। অনেকেই ওই প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা করেন।
বাবার মৃত্যুতে শোকাহত কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতের কোয়েম্বাটোরের একটি প্রতিষ্ঠান। শুধু ৩০ দিনের ছুটিই নয়, বাবার চিকিৎসা খরচের ২০ শতাংশও বহন করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানের এমন মানবিক উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ওই কর্মীর ভাই ভিবিন বাবুরাজান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তার বোনের কর্মরত কোয়েম্বাটোরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বাবার চিকিৎসা ব্যয়ের ২০ শতাংশ বহন করেছে। পাশাপাশি তাকে চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ছুটি দেওয়া হয়েছে।
ভিবিন বাবুরাজান ‘এপিক স্লোপ পার্টনার্সের’ প্রতিষ্ঠাতা। তিনি জানান, বাবার মৃত্যুর পর তার বোনের খোঁজ নিতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নিজেও ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন।
তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ করেননি তিনি। শুধু জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করছে। এর কর্মী সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি। বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য রপ্তানি হয়।
এক্সে পোস্টে ভিবিন লেখেন, ‘৫০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে, ৪০টিরও বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি করে এবং ৪ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে আমাদের বাবা-মায়েরা তাদের কর্মস্থলের প্রতি এতটা অনুগত ছিলেন।’
তার এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই ব্যক্তিগত সংকটের সময় কর্মীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা করেন। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ কর্মীদের শুধু কর্মী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও দেখার উদাহরণ।
একজন লিখেছেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৬ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তার মনে হয়েছে, তথাকথিত পেশাদার ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পারিবারিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো।
আরেকজন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের প্রতি এমন যত্নের প্রশংসা করে বলেন, তিনি এতে খুবই মুগ্ধ। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি যেন কর্মীদের প্রতি একইভাবে যত্নশীল থাকে, সেই প্রত্যাশাও জানান তিনি।
আরেক ব্যবহারকারী পুরোনো দিনের কর্মীবান্ধব প্রতিষ্ঠানের কথা তুলে ধরেন। তার মতে, একসময় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের পেনশন দিত, ছুটিতে যাওয়ার জন্য কম খরচে অতিথিশালার সুবিধা দিত। তখন গণহারে কর্মী ছাঁটাইয়ের সংস্কৃতিও ছিল না।
তার মন্তব্য, আধুনিক চাকরির নানা সুবিধার আড়ালেও শেষ পর্যন্ত অনেক সময় কর্মীদের গণছাঁটাইয়ের মুখে পড়তে হয়।
আরেকজন মন্তব্য করেন, এত বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে অসংখ্য মানুষের আশীর্বাদ রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি








































