শীতের সোনালী আলোয় উদ্ভাসিত আমাদের প্রকৃতি। কোথাও ঝলমলে রোদ হাসছে, আবার কোথাও কুয়াশার ভিড়ে একটুখানি উঁকি দিচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে ইতোমধ্যে বেশ ঠান্ডাও পড়েছে। আমাদের দেশে শীত মৌসুমের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে লোভনীয় শীতের পিঠা।
শীতের শুরুতেই ঘরে-ঘরে শুরু হয় পিঠা-পুলির আয়োজন। বাড়ির সদস্যরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে পিঠা তৈরির পূর্ব প্রস্তুতিতে। চালের গুঁড়া, আটা, ময়দা দিয়ে নানা ধরনের পিঠার আয়োজন চলে। ঐহিত্যগতভাবে যতো পিঠা আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাপা পিঠা। ভাপা পিঠার গরম তুলতুলে নরম স্বাদই আমাদের আকর্ষণের মূল কারণ।
ভাপা পিঠার মধ্যেও রয়েছে রকমফের। ঝাল, মিষ্টি স্বাদের ভাপা পিঠার বানানো হয়। তবে ইদানিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে 'শাহী ভাপা পিঠা'। এটি বানানোর খুব সহজ। একই উপাদানের তৈরি হয়। তবে শাহী ভাব আনতে দেওয়া হয় বাড়তি কিছু উপাদান। শীতের সকালে নাস্তার টেবিলে থাকতে পারে মজাদার 'শাহী ভাপা পিঠা'।
সহজেই ঘরে কীভাবে শাহী ভাপা পিঠা বানানো যাবে তা জানাব এই আয়োজনে_
যা যা লাগবে_
- সেদ্ধ চালের গুঁড়া-দুই কাপ
- পোলাওর চালের গুঁড়া-দুই কাপ
- খেজুরের গুড়- দেড় কাপ
- নারকেল কোরানো-দুই কাপ
- দুধের ক্ষীর- এক কাপ
- মালাই-এক কাপ
- কিশমিশ-দুই টেবিল চামচ
- চেরি ফল- কয়েকটি
যা যা লাগবে_
প্রথমে একটি পাত্রে পানি গরম করতে দিন। ভাপা পিঠা মূলত পানির বাষ্পের ভাপ দিয়ে বানাতে হয়। তাই পানি চুলায় দিয়ে গরম করতে থাকুন।
এখন চালের গুঁড়া বাঁশের চালনিতে ভালোভাবে চেলে নিন। চালের গুঁড়ার সঙ্গে স্বাদমতো লবণ, গুঁড়ো করা গুড় মিশিয়ে নিন। এবার খুবই সামান্য কুসুম গরম পানি দিন। পানি এমনভাবে মেশাতে হবে যেন চালের গুঁড়া দলা না বাঁধে এবং মিশ্রণটি ঝরঝরে থাকে। এরপর চালের গুঁড়ায় অর্ধেক পরিমাণ নারকেল কোরানো মিশিয়ে নিতে পারেন। নাও মেশাতে পারেন এটা পছন্দমতো করে নিন।
এবার একটি ছোট বাটি নিন। এতে অল্প চালের মিশ্রণ, কিছু নারকেল মাখানো চালের গুঁড়া, অল্প গুড় দিয়ে এর ওপর আবারও নারকেল মাখানো চালের গুঁড়া দিয়ে দুধের ক্ষীর, পেস্তাবাদাম, কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে নিন। এরপর আবারও সামান্য চালের গুঁড়া মিশিয়ে বাটি ভরে নিন।
পিঠা বানানোর প্রক্রিয়া শেষ হলে একটি পাতলা ভেজা কাপড় দিয়ে বাটিটি মুড়িয়ে নিন। এরপর চুলায় বসানো গরম পিঠার হাঁড়িতে বন্ধ বাটিটি উল্টে দিন। এখন ঢেকে দিয়ে ১০ থেকে ১২ মিনিট পিঠা অপেক্ষা করুন। এরপর কাপড়সহ পিঠা তুলে নিন। কাপড় থেকে ছাড়িয়ে গরম গরম প্লেটে রাখুন।
সবশেষে পিঠার উপরে আবারও একটু মালাই পেস্তাবাদাম কুচি এবং চেরি ফল সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন শীতের মজাদার শাহী ভাপা।







































