সৌদি থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০১:১২ পিএম
সৌদি থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর গতকাল বুধবার এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসসহ সম্ভাব্য আরও হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় হতাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সম্প্রতি দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এর আগে সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় হামলার চেষ্টার সময় ড্রোন প্রতিহত করা হয়। ওই ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কয়েকটি মার্কিন মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ এখন সৌদি আরবের ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে কিছু কর্মীকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সৌদি আরবে নতুন করে হুতি হামলা বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনের হুতিরা সাম্প্রতিক সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বাড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতি হামলায় ৭৩ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে আঞ্চলিকভাবেও তৎপরতা বাড়ছে। তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে করা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় দেশটিতে সেনা পাঠানোর অনুমোদন নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি সরকারি দলের সূত্র। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও বলেছেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ড রক্ষায় তার দেশ সহযোগিতা করবে।

ফলে সৌদি আরবকে ঘিরে হুতি হামলা এখন শুধু ইয়েমেন-সৌদি সংঘাতের মধ্যে সীমিত নেই। এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যপথেও পড়ছে।

এদিকে, হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধু সৌদিতে হুতি হামলার আশঙ্কাই রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন সামরিক উত্তেজনার সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে ইরানে হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচনের পর আবার হামলা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার ভাষায়, ইরানের ‘মানচিত্রই পাল্টে দেওয়া’ হতে পারে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরান বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলাও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে।

এদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নেতৃত্বে মক্কা জোটও ধীরে এগোচ্ছে। ইরানকে ঘিরে এই জোটের দেশগুলোর নিজেদেরও নানা উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে আছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে ভালো ফল করলে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যনীতি বদলাতে পারে— এমন ধারণাও রয়েছে।

তবে নির্বাচনের ফল না আসা পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। ৩ নভেম্বরের পরই ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের পরবর্তী অবস্থান আরও পরিষ্কার হতে পারে।

Link copied!