বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত, প্রেমময় এবং পরে সবচেয়ে তিক্ত বিচ্ছেদের গল্প বললে যাদের নাম সবার আগে আসে, তা হলো সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমকাহিনী। নব্বইয়ের দশকের শেষে ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’-এর সেট থেকে শুরু হওয়া সেই প্রেম ২০০২ সালে গড়ায় চরম এক অশান্তিতে।
তবে বিচ্ছেদের পর থেকে সালমানকে নিয়ে সবসময় কেন নিশ্চুপ থাকেন ঐশ্বরিয়া? ২০১২ সালের সিমি গারেওয়ালের জনপ্রিয় পডকাস্টের সেই পুরনো সাক্ষাৎকারটি আবার নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে।
সাক্ষাৎকারে সিমি গারেওয়াল যখন সাবেক মিস ওয়ার্ল্ডকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি সালমানের সঙ্গে পুরনো সেই অধ্যায়টিকে নিরপেক্ষভাবে ফিরে দেখতে পারেন কি না, তখনই ঐশ্বরিয়া স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আমি সেই অধ্যায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছি। বিশেষ করে কোনো পাবলিক প্ল্যাটফর্মে দাড়িয়ে আমি সেই পুরনো কথা আর নতুন করে বলতে চাই না।
সিমি যখন সংবেদনশীলভাবে প্রশ্ন করেন, কথা বলতে গিয়ে কি পুরনো নেতিবাচক স্মৃতিগুলো ভেসে ওঠে? ঐশ্বরিয়ার সোজাসাপ্টা জবাব, আমি আমার অতীতের সমস্ত ভূত আর নেতিবাচকতাকে অনেক আগেই তাড়িয়েছি। যা অতীত, তা অতীতেই থাকা উচিত।
বিশ্বসুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে একজন সাধারণ ঘরের মেয়ে মনে করেন ঐশ্বরিয়া। বিচ্ছেদ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ‘আমি শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবি না। আমার একটা পরিবার আছে, প্রিয়জনরা আছে যাদের আমি ভালোবাসি। আমি একা নই, তাই আমাকে সংযমী হতে হয়। আর যাদের নিয়ে কথা বলব, তারাও মানুষ, তাদেরও মা-বাবা ও পরিবার আছে। মিডিয়া আমাকে ডিপ্লোম্যাটিক বলুক তাতে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু আমি কারও অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথা বলতে পারব না।’
২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদের পর আগুনে ঘি ঢেলেছিল ‘চলতে চলতে’ সিনেমার সেটে সালমানের হট্টগোলের খবর। যার জেরে ঐশ্বরিয়াকে সরিয়ে রানী মুখার্জিকে নেন নির্মাতারা। এমনকি পরে অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে ঐশ্বরিয়া প্রেমে জড়ালে বিবেকের সঙ্গেও চরম আইনি ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে জড়ান সালমান।
তবে ২০০৭ সালে অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করে জীবনে নতুনভাবে এগিয়ে গেছেন ঐশ্বরিয়া, আর বর্তমানে কন্যাসন্তান আরাধ্যকে নিয়ে তিনি সুখে সংসার করছেন।















