দেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এর দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে আগামী বছরের ৩১ মার্চ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সহজলভ্য করা হয়েছে অনুসন্ধান এলাকার ভূতাত্ত্বিক ও ভূকম্পন জরিপসংক্রান্ত তথ্যের ডাটা প্যাকেজ।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচনা ও তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ (পেট্রোবাংলা) বিভাগের কর্মকর্তারা।
চলতি বছরের ২৪ মে অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করে সরকার। এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে অগভীর সমুদ্রে ১১টি এবং গভীর সমুদ্রে ১৫টি ব্লক রয়েছে।
ডাটা প্যাকেজ সহজলভ্য করা এবং দরপত্র জমার সময় বাড়ানোর ফলে আগ্রহী কোম্পানিগুলো অনুসন্ধান এলাকার ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা যাচাই ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় পাবে। এতে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা।
বঙ্গোপসাগরের ব্লকগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার এবার উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির শর্তেও পরিবর্তন এনেছে। নতুন চুক্তিতে আন্তর্জাতিক বাজারের অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, বিনিয়োগের অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ এবং নির্দিষ্ট শর্তে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রি ও রপ্তানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের অফশোর দরপত্রে পর্যাপ্ত সাড়া পাওয়া যায়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আর্থিক ও বাণিজ্যিক শর্তে পরিবর্তন এনে নতুন দরপত্র আহ্বান করেছে সরকার। এবারও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের সমুদ্রাঞ্চলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সময় বাড়ানো ও ডাটা প্যাকেজ সহজলভ্য করার উদ্যোগের বাস্তব ফল নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর চূড়ান্ত আগ্রহ, অনুসন্ধানের ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের বাণিজ্যিক শর্তের ওপর।














