এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার।
এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ বার্তা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, ডিলার পর্যায়ে ধর্মঘটের হুমকির পর সরকার একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে কেউ কারসাজি করলে বা জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে সরকার কঠোর হাতে তা দমন করবে। তিনি জানান, সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে, তবে দেশকে জিম্মি করার চেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।
জ্বালানিমন্ত্রী বললেন, সরকার এলপিজির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে চায়। ধর্মঘটের চেষ্টা করে দাম বাড়ানো হলে তা বরদাশত করা হবে না। তিনি আগামী দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলপিজিতে সরকার ভর্তুকি দেয় না জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতে এ খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দেশ জুড়ে সব এলপিজি দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। সংগঠনের সভাপতি সেলিম খান ওইদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানলে দুই দিনের পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকা হবে।
ব্যবসায়ীদের দাবির মধ্যে আছে, পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানো, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা ও হয়রানি বন্ধসহ সাতটি দাবি।
গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু এ দামে কোথাও তা মিলছে না। বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো ৪০০-৫০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন।
এলপিজি অপারেটররা জানিয়েছেন, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন। বাড়তি কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে সংকট নিয়ে সরকারও তৎপর ছিল। ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময় সভায় অপারেটররা মন্ত্রীকে জানান, দেশে এলপিজির সংকট নেই। ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। ৩ অক্টোবর আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ৮ জানুয়ারি প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা দেশ জুড়ে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন। বিইআরসির সঙ্গে বৈঠক ও দাবি পূরণের আশ্বাসে সেদিন বিকালেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।













