নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফের তোলপাড় শুরু হয়েছে বিনোদন দুনিয়ায়। ২০১০ সালে অস্ট্রিয়ান হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হাগকে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন তিনি। কিন্তু রূপকথার সেই সংসার আজ শুধুই এক দুঃস্বপ্ন।
বিবাহবার্ষিকীর বিশেষ উপহার দেওয়ার নাম করে তাকে পোস্ট অফিসে নিয়ে গিয়ে ডিভোর্স পেপার ধরানো হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী। আর আজ সেই ঘটনার এক বছর পূর্তিতে নিজের চরম দুর্দশা ও আইনি লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন সেলিনা।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সেলিনাকে জানানো হয়েছিল যে তার ১৫তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে একটি সারপ্রাইজ উপহার অপেক্ষা করছে। কিন্তু সেই উপহারের খাম খুলতেই তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে, কারণ সেটি ছিল ডিভোর্স নোটিস।
এরপর আর অস্ট্রিয়ায় এক মুহূর্তও থাকা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। স্থানীয় অস্ট্রিয়ান প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে জীবন বাঁচিয়ে শুধু একটি স্যুটকেস, যাতে ছিল মায়ের কিছু স্মৃতিবিজড়িত শাড়ি ও জরুরি কিছু ফাইল, তা নিয়ে গত বছরের ১২ অক্টোবর মুম্বাইতে ফিরে আসেন এ অভিনেত্রী।
সেলিনার জীবন বহু বিপর্যয়ে ভরা। ২০১২ সালে যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর ২০১৭ সালে তিনি আবারও যমজ সন্তানের মুখ দেখেন, আর্থার ও শামশের। কিন্তু জন্মগত হৃদরোগের কারণে জন্মের পরপরই মারা যায় ছোট্ট শামশের। এক সন্তানের সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই স্বামীর সঙ্গে শুরু হয় বৈবাহিক দ্বন্দ্ব।
বর্তমানে তার তিন ছেলে উইনস্টন, ভিরাজ ও আর্থার রয়েছে অস্ট্রিয়ায় বাবার কাছে। সেলিনার অভিযোগ, আদালতে প্রাক-বিবাহকালীন সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মামলা করার পর থেকেই তার তিন সন্তানের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
এমনকি অস্ট্রিয়ায় আদালতের কাজে গিয়েও সন্তানদের সামনে থেকেও তাদের দেখা পাননি তিনি। এক বছর ধরে সন্তানদের ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এ বলিউড অভিনেত্রী।
আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাড় করা নিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন সেলিনা। তার দাবি, স্বামীর আইনজীবীরা তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে মামলার খরচ না থাকলে যেন তিনি অস্ট্রিয়ায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেন।
শুধু তাই নয়, তার সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া ছাড়াও ভারতে তার নিজস্ব প্রাক-বিবাহকালীন সম্পত্তি জোরপূর্বক বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বর্তমানে গার্হস্থ্য নির্যাতন আইনসহ মুম্বাই ও অস্ট্রিয়ার আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে বহুমুখী আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সেলিনা।















