• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১,

কুড়িগ্রামে ফের বাড়ছে পানি, বন্যার শঙ্কা


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৩, ০৯:০৫ পিএম
কুড়িগ্রামে ফের বাড়ছে পানি, বন্যার শঙ্কা

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ব্রহ্মপুত্রসহ কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদীর পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। এতে জেলায় নতুন করে তৃতীয় বারের মতো বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার (২৭ আগস্ট) দুপুরে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার রাজারহাট ও উলিপুরের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে। একই সঙ্গে আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

শনিবার (২৬ আগস্ট) কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্ট বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি বেড়ে সেতু পয়েন্টে ৬১ সেন্টিমিটার এবং দুধকুমারের পানি বেড়ে পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের নতুন জেগে ওঠা মুসার চর ও বালাডোবার চরের ঘর-বাড়িতে পানি ওঠায় প্রায় ১ হাজার এবং থেতরাই ইউনিয়নের চর রামনিয়াসা, জুয়ানসতরা, গড়াই পিয়ার, খারিজা নাটশালার প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াসাম, চর খিতাবখা, চর নাকেণ্ডায় ৪ হাজার মানুষ এবং বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ, আনন্দবাজার, চতুড়া, রামহরি ২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

নাগেশ্বরী নুনখাওয়া ইউনিয়নের গরু ভাসার চরের সাবেক ইউপি সদস্য মো. তাজেল উদ্দীন বলেন, গঙ্গাধর ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে গরু ভাসার চর, কাঠগিরির চর, মাঝেরচরের প্রায় ২০টি বাড়িতে পানি উঠেছে। ইতোমধ্যে নুনখাওয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, “গত দুইদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি হুহু করে বাড়তে শুরু করেছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নয়টি ওয়ার্ডের কিছু অংশ এবং চর বিদ্যানন্দ, আনন্দ বাজার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল রাতে তিস্তার পানি বাড়ায় বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।”

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে রাজারহাট উপজেলার দুইটি ইউনিয়ন ও উলিপুরের একটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলায় ৩৬২ মেট্রিকটন চাল, ৫ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য বাবদ ২ লাখ ও গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ ৫ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

Link copied!