• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ভাঙনে দিশাহারা তিস্তাপাড়ের মানুষ


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৩, ১০:৪৩ এএম
ভাঙনে দিশাহারা তিস্তাপাড়ের মানুষ

কুড়িগ্রামে আবার বাড়তে শুরু করেছে তিস্তাসহ সব কটি নদ-নদীর পানি। এতে ভাঙন দেখা দিয়েছে তিস্তাপাড়ে। নদীভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।

রাজারহাটের চর খিতাবখাঁ, বড়দারগাহ মাজার, সরিষাবাড়ি ও গতিয়াশামে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার প্রবল স্রোতে এসব চরের প্রায় চার শ বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। লোকজন যতটুকু পারছেন নিজেদের বসতভিটার মালামাল ও জমির গাছগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। বাড়িঘর ভাঙনের শিকার হলেও এসব এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

বড়দারগাহ মাজারের বাসিন্দা হামিদা খাতুন বলেন, “ভাই কী বলব দুঃখের কথা। আমার চারটা ঘর আজ সকালে ভেঙে গেছে। দুই বাচ্চাক নিয়া কই উঠব, স্বামী অচল, কাজ কাম করতে পারে না। বাড়ির সামনে বালুর বস্তা ফেললেও ভিটেমাটিটা বাঁচানো যেত।”

৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মামুনুর রশিদ বলেন, “শনিবার থেকে আমার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ২টি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। পাউবোকে কয়েকবার বলার পরও বড়দারগাহ মাজার এলাকায় জিও ব্যাগ দেয়নি। যার কারণে এখানকার ৩০০টা মতো পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এখন ক্রমাগত নদী ভেঙেই চলছে।”

অন্যদিকে তিস্তার পানি কমে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টি মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ব্রহ্মপুত্র, ধরলা আর দুধকুমারের পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে জেলার চিলমারীর শাখাহাতি, মনতোলা, রমনা, রানীগঞ্জ উলিপুরের বেগমগঞ্জ, গুনাইগাছ, থেতরাই, নাগেশ্বরীর ফান্দের চর, বামনডাঙ্গা, তেলিয়ানির কুঁটি ও জেলা সদরের সাহেবের আলগা, পোড়ার চর, চর ইয়ুথনেট, দই খাওয়ার চরসহ নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার রোপা আমন, মৎস্য ঘের ও গোচারণ ভূমিগুলো। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বানভাসীদের।

বুধবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুন খাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার, ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টি মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টি মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উলিপুরের বেগমগঞ্জের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, “সকাল থাকি পানি বাড়ছে, গতকাল হামার ৩ বিঘা জমির আমন ক্ষেতে পানি উঠছে।”

নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি বলেন, “আমার এলাকার প্রায় দুই শ বাড়ির চারপাশে পানি প্রবেশ করেছে। এখানকার নিচু অঞ্চলের মানুষগুলো পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।”

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার জানান, নদ-নদীর পানি বাড়ায় ২ হাজার ৪০ হেক্টর জমির আমন ধান, ৯৮ হেক্টর সবজি ক্ষেত এবং ১৬ হেক্টর জমির বীজতলা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বুড়িরহাটের ১৫০ মিটার বাঁধ ও আরসিসি স্পারের বাকি ৩০ মিটার রক্ষায় রাতদিন কাজ চলছে। আমাদের যথেষ্ট জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা আছে। বড়দারগাহ এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে আজ কাজ শুরু করা হবে।”

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, “উলিপুর ও রাজারহাটের প্লাবিত এলাকাগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেসব বিতরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি আমাদের খাদ্যসহায়তা, উদ্ধার নৌকা ও আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

Link copied!