ভাতা বঞ্চিত ২ হাজার সুবিধাভোগী


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২১, ০৩:৪১ পিএম
ভাতা বঞ্চিত ২ হাজার সুবিধাভোগী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কেদারখীল গ্রামের আশি বছরের বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম। স্বামী মারা গেছে ৩০ বছর আগে। অভাবের সংসারে ছেলে মেয়েকে বড় করেছেন। ছেলেরাও দিন এনে দিন খায়। আনোয়ারা বেগম পালা করে চার ছেলের কাছে থাকেন। সরকার থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক ভাতা দিয়ে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করেন।

গত বছর সরকার সরাসরি উপকারভোগীদের টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত (জিটুপি) নিলে সবার মত তিনিও বইটি সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে জমা দেন। সমাজ সেবা অফিস তাকে বইটি আর ফেরত দেয়নি। ফলে এক বছর ধরে বিধবাভাতা থেকে তিনি বঞ্চিত রয়েছেন।

সমাজ সেবা অফিসে গত কয়েকমাস ঘুরেও এর কোনো সমাধান পাননি আনোয়ারা বেগম। রোববার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন আনোয়ারা বেগমের ছেলে জেবল হোসেন।

এছাড়াও সেবা গ্রহণ করতে আসা লোকজন প্রতিনিয়ত নানা ধরণের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতাসহ সরকারি উপকার ভোগীদের বই হারানো প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে এই অফিস থেকে। 

জানা যায়, এরকম অন্তত দুই হাজার উপকার ভোগীর বই হারিয়েছে উপজেলা সমাজ সেবা অফিস।

উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের সামনে জটলা দেখে খোঁজ নিতে গেলে কথা হয় কুমিরার বিধবা নীহারবালা, বাড়বকুণ্ডের রেহানা বেগম পুতুল, সৈয়দপুরের বিধবা সোলেমার সঙ্গে। সমাজ সেবা অফিসে জমা নেওয়ার পর তাদের সবার বই হারিয়ে যায় বলে তারা জানান। এদের সবাই বর্তমানে ভাতা বঞ্চিত। একইভাবে প্রতিবন্ধী জোবেদা আক্তার সুমির বইটিও হারিয়েছেন বলে তার ভাই নুরুল ইসলাম জানান। 

তবে বই হারানোসহ মোবাইল নাম্বার হালনাগাদ করার সময় কিছু সমস্যা হওয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা বেগম বলেন, যাদের বই হারিয়েছে তাদের সবার তথ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ও যারা ভাতা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের ভাতা প্রদানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

বিষয়টি অবগত ছিলেন না জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রায় দুই হাজার বই অফিস থেকে হারানোর ঘটনা সত্যি হলে তা দুঃখজনক, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Link copied!