• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১, ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতে মরিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১, ০৯:৫০ পিএম
স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতে মরিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

প্রায় দেড় বছর পর আগামীকাল রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) খুলতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ে যেতে মুখিয়ে আছে শিক্ষার্থীরা, বরণ করে নিতে প্রস্তুত শিক্ষকরা। স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতে মরিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী

দীর্ঘদিন পর অবশেষে খুলতে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও কলেজ। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহীর প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলছে শেষ পর্যায়ের ধোয়ামুছার কাজ। নেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতের প্রস্তুতি। রাজশাহীতে এমনই ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি শুরু করেছে অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় অধ্যক্ষ মো. সাইফুল হক সংবাদ প্রকাশকে জানান, প্রতিষ্ঠানের ধোয়ামুছার কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। দুই শিফটে ক্লাস নেওয়া হবে। দুইজন এমএমবিএস চিকিৎসক নিযুক্ত করা হয়েছে। গেটের তাপপরিমাপক যন্ত্র রাখা হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে আসতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে একটি মনিটরিং দল গঠন করা হয়েছে।

সিলেট

সারা দেশের মতো পাঠদানের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে সিলেটের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এজন্য বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চ সাজাতে হবে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে। ৫ ফুটের কম দৈর্ঘ্যের বেঞ্চে একজন শিক্ষার্থী এবং ৫ ফুটের বেশি দৈর্ঘ্যের বেঞ্চে দুজন শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসে ক্লাস করতে পারবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢোকার আগেই তাপমাত্রা পরীক্ষা করা ও সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আর সরকারের এসব নির্দেশনা মেনেই প্রস্তুত হচ্ছে সিলেটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। সিলেটের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো পাঠদান শুরু করতে অনেকটাই প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষ, অফিস কক্ষ ও লাইব্রেরি ধোয়া-মোছার কাজ চলতে দেখা গেছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে চলেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার উপকরণ নিশ্চিতের কাজ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকরা বলছেন, বিদ্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তারাও মানসিকভাবে ভালো নেই। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও সবার সঙ্গে দেখা হয় না। তাই বিদ্যালয় খোলার ঘোষণায় আনন্দিত তারা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন করে আসবে, নতুন করে সাজবে। শিখন ও শেখানোর মধ্য দিয়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে প্রিয় প্রতিষ্ঠানে।

সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র, হাত ধোয়ার স্থান, ক্লাসে ক্লাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা, আইসোলেশন কক্ষের প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সবকিছুই আমরা রেখেছি। শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দেখে আমরা প্রতিটি সেকশনকে আলাদা করব।

সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির খান জানান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করতে তারা শতভাগ প্রস্তুত। শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কারের কাজ প্রায় শেষ। বিদ্যালয়ের সামনে কোভিড-১৯ এ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করণীয় সম্পর্কিত একটি ব্যানার টানানো হবে। প্রতিষ্ঠান খোলার দিন থেকে প্রবেশ ফটকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থাকবে। এছাড়া ক্লাসরুমে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে একটি সেকশনকে দুই ভাগে ভাগ করা হবে।

সিলেট এমসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সালেহ আহমদ বলেন, “আমরা শতভাগ প্রস্তুত। আমরা কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি তা দেখতে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর সিলেট বিভাগের প্রায় ৮০ জন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ তা দেখতে আসবেন।”

সালেহ আহমদ আরও বলেন, “প্রথম দিন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আসবে। আগে তাদের দুটি ক্লাসরুমে বসানো হতো। এখন ৪টি ক্লাসরুমে বসানো হবে। প্রথমদিন তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানাব।”

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক প্রফেসর মো. আব্দুল মান্নান খান বলেন, সরকারের নির্দেশনা ইতোমধ্যে সিলেটের সব বিদ্যালয় ও কলেজে পাঠানো হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব।

সিলেট বিভাগে প্রাথমিকে প্রায় ১২ লাখ ৮৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিকে ৮ লাখ ১৮ হাজার, উচ্চ মাধ্যমিক ও কলেজে ২ লাখ ৫০ হাজার এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

বরিশাল

১৭ মাস ২৪ দিন পর স্কুল-কলেজ খুলছে আগামীকাল রোববার। এ লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে শ্রেণি কক্ষ-টয়লেট-বাথরুম। মাস্ক ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেবে না কর্তৃপক্ষ। ক্লাসেও শারীরিক দূরত্ব রক্ষায় নেওয়া হয়েছে পদক্ষেপ। স্কুল পর্যায়ে ৫ম এবং দশম শ্রেণির ক্লাস হবে প্রতিদিন, অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে একদিন। অপরদিকে কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস হবে প্রতিদিন। অনার্স-মাস্টার্স ক্লাসের সময়-সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।

প্রায় ১৮ মাস পর স্কুলে যেতে মুখিয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা। গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তারা। এতে বেশ খুশি শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্য বিধি রক্ষা করে ক্লাস কার্যক্রম অব্যাহত রেখে করোনাকালীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চান বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মল্লিকা চক্রবর্তী।

বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, স্কুল খোলার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বেসিন। মাস্ক ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এক বেঞ্চের দুই মাথায় দুইজন এবং পরবর্তী বেঞ্চে মাঝখানে বসবে একজন করে শিক্ষার্থী। স্কুলের গেটেও অভিভাবকদের ভিড় এড়াতেও নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। আপাতত ৫ম এবং দশম শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহের ৬দিন। শিক্ষার্থী বেশি থাকলে একাধিক কক্ষে নেওয়া হবে ক্লাস। অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস হবে প্রতি সপ্তাহে একদিন।

এদিকে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, করোনা সুরক্ষায় ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নে্ওয়া হয়েছে যথাযথ পদক্ষেপ। আপাতত দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহের ৬দিন। তবে অনার্স-মাস্টার্স ক্লাসের সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি। করোনা সুরক্ষায় সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সম্ভব সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন তিনি।

গত বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষের অনুষ্ঠান পালনের পরই করোনার সংক্রামন ঠেকাতে বন্ধ হয়ে যায় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

পাবনা

সরকারি ভাবে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত আসায় আগামীকাল রোববার থেকে চালু হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শুরু হবে পাঠদান। ঘোষণার পর থেকে স্কুল খোলার প্রস্তুতি শুরু করেছে পাবনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, স্যানিটাইজ করা, স্কুল চত্বরসহ আশপাশের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষকরাও। দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলা নিয়ে আশার আলো দেখছেন অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও মুখর হবে পাবনা জেলার মোট ১৮১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১১৩৬টি এবং স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ৬৭৯টি।

পাবনা সদরের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। সদর উপজেলার আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলে খোলার বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন শিক্ষকরা। স্কুল চত্বরের আগাছা পরিষ্কার, স্কুলের দেয়ালে ও কক্ষে ঝাড়ামোছাসহ শ্রেণি কক্ষগুলো পরিষ্কার করতে ব্যস্ত রয়েছেন তারা।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল চালু করা হবে এমন কথা জানতে পেরেছি। তারপর থেকে আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। এতদিন পাঠদান বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষ জরাজীর্ণ ছিল, সেগুলো পরিষ্কার করে পাঠদান উপযোগী করে তুলছি। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ফোনে স্কুল খোলার বিষয়টি অবহিত করছি।

দ্বীপচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা ব্যস্ত শিক্ষার্থীদের এসাইনমেন্ট বিতরণ ও জমা নিয়ে। প্রধান শিক্ষক শফিনা শামসুন্নাহার বলেন, নতুন করে সবকিছু পরিষ্কার করে স্যানিটাইজ করেছি। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেছি। শিশুরা কিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠগ্রহণ করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা এখন ১২ তারিখের অপেক্ষায় রয়েছি।

পৌর সদরের গোপালপুর শহীদ গামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটিতে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মতবিনিময় সভা করছেন সদর উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনম। স্কুলের আঙিনা ও শ্রেণী কক্ষ মোটামুটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন দেখা যায়।

প্রধান শিক্ষক আইরীন পারভীন বলেন, গত জানুয়ারি মাস থেকে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। শ্রেণিকক্ষগুলো জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসার পর তাদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে। থার্মোমিটার দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা করা হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদানের ব্যবস্থা করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ১২ তারিখের অপেক্ষায় আছি আমরা।

শওকত আলী ও ফজলুর রহমান নামের দু’জন অভিভাবক বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ঘরবন্দি শিশুরা দিন দিন পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আশা করছি আর কোনো তারিখ পেছানো হবে না। এবার সত্যি সত্যি যেন স্কুল খুলে দেওয়া হয়।

পাবনা সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনম বলেন, আমরা সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছি। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল খোলার নির্দেশনা জানানো হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সভা করে পর্যবেক্ষণ করছি। কিভাবে পাঠদান হবে, দূরত্ব বজায় থাকবে কি না, পাঠদান শিফটিং হবে কি না, এসব বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব বিষয় নিয়ে এখন সরকারি পরিপত্রের অপেক্ষায় আছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী বলেন, জেলায় ১ হাজার ১৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বন্যা কবলিত কিছু স্কুল বাদে প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আশা করছি সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক পাঠদান শুরু হবে। ১২টি স্কুল বন্যার পানি কবলিত রয়েছে। স্কুল খুলতে খুলতে আশা করি পানি নেমে যাবে। পাঠদানের সমস্যা হবে না।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে সভা করে, কোথাও সরেজমিন গিয়ে স্কুল খোলার বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছি। সরকারের নির্দেশনা বাবস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আশা করছি ১২ তারিখের আগেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদানের জন্য প্রস্তত হয়ে যাবে।

মোসলেম উদ্দিন আরও বলেন, জেলায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা মিলিয়ে মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬৭৯টি। এর মধ্যে স্কুল রয়েছে ৩২৮টি, মাদ্রাসা রয়েছে ২৬১টি, কলেজ ৬১টি এবং কারিগরি কলেজ রয়েছে ২৯টি।

নড়াইল

বিদ্যালয় খোলার ঘোষণায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে রয়েছে উচ্ছ্বলতা, শিক্ষকদের কর্মচাঞ্চল্য বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা বিষয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকসহ স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি নির্দেশনা মেনে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বেশিরভাগ স্কুলে চলছে নতুন নিয়মে বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি। ছাত্রদের ইউনিক আইডি এবং বোর্ডের আইডি খোলার জন্য শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে হাজির হচ্ছেন। রক্তের গ্রুপ নির্ণয়সহ মোবাইল নম্বরের জন্য বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে শিক্ষক-ছাত্র কারোরই তেমন গুরুত্ব দেখা যায়নি।

কালিয়া উপজেলার পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এখানে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি এবং বোর্ড কর্তৃক আইডি খোলার জন্য শিক্ষার্থীরা এসেছেন রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের জন্য। বিদ্যালয়ের এককোনে একজন পল্লী চিকিৎসক রক্ষের গ্রুপর জন্য রক্ত সংগ্রহ করছেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক নাই তারা বিদ্যালয়ে আসার আনন্দে গলাগলি করে গল্পে মেতে উঠেছে। একজন শিক্ষককে ছুটে আসতে দেখা গেল তার মুখেও মাস্ক নাই। দশম শ্রেনীর শিক্ষাথী তাসলিমা মাস্ক ছাড়াই ঘুড়ে বেড়াচ্ছে তাকে মাস্ক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বললো,আমি তো প্রাইভেট পড়তে গেছিলাম ওখান থেকে স্কুলে এসেছি তাই মাস্ক আনতে পারিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ বোস যশোরে ব্যক্তিগত কাজে গেছেন। বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি টেলিফোনে বলেন, আগামী ১২ তারিখে বিদ্যালয় খুলবে আমরা সরকারি যে ১৯ নির্দেশনা আছে তা মেনেই চলব।

অনলাইনে ইউনিক আইডি খোলার জন্য বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়। এটি কালিয়ার একেবারে প্রত্যন্ত মহিষখোলা হাজী ওসমান গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কয়েকজন শিক্ষক ল্যাপটপ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে জড় হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তা অনলাইনে এন্ট্রি দিচ্ছেন। এখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্র কারো মুথে মাস্ক কিম্বা স্বাস্থ্যবিধির বালাই নাই। ছবি তুলতে গেলে তেড়ে আসেন সহকারী শিক্ষক তিলক চন্দ্র। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে একটু পরে নিজেদের ভূল বুঝতে পেরে নত হয়ে বলেন,এটা আমাদের ভূল হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষাথী আশিকুর রহমান বলেন, স্যাররা আমাদের মাস্ক পরে আসতে বলেছেন, কিন্ত আমরা তা মান্য করিনি এটা আমাদের দোষ।
একই অবস্থা নড়াইল সদরের আলোকদিয়াা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। স্কুলের জানালা-দরজা সব বন্ধ, ভেতরে বেঞ্চগুলোতে ধুলা জমে আছে, পরিষ্কার পরিচ্ছনাতা বিষয়ে কোনো চিন্তাই নাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বিদ্যালয়ে দুপুর একটার দিকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেছেন। উপস্থিত ধর্মশিক্ষক শওকত হোসেন জানালেন,আমাদের বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হচ্ছে তাই জায়গা কিছুটা সংকট,তবে ১২ তারিখের আগেই সব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখবো,শিক্ষার্থীরা মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করেই স্কুলে আসবে।

আলোকদিয়া বিদ্যালয়ের অভিভাবক শিরিনা সুলতানা ও অনিল চন্দ্র জানান,আমরা তো বাড়ি থেকে সন্তানকে মাস্ক পরিয়ে ঠিকমতোই পাঠাবো। কিন্তু স্কুলে সব ছাত্ররা যদি মাস্ক না পরে কিম্বা স্যাররা যদি স্বাস্থ্য বিধির গুরুত্ব না দেয় তাহলে তো ঝুকি থেকেই যাচ্ছে।

পাশের আলোকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। এখানে শিক্ষকেরা নিজ ক্যাচমেন্ট  এলাকার  বাড়ি বাড়ি নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করে স্কুলে ফিরছেন। বিদ্যালয় আঙ্গিনা একদম পরিবাটি করে রেখেছেন প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে। শিক্ষক-কর্মচারী মিলে বেঞ্চ এবং আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখায় ব্যস্ত।

জেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১৩১ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪৪ মাদ্রাসা, ২৮ কলেজ, ৫ কারিগরি কলেজে প্রায় ৫০ হাজার এবং ৪৯৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৩ হাজারসহ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিশুশ্রেণি বাদে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর ক্লাস চালু হবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। স্বাস্থ্যবিধি মানা বিষয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকলেও বিদ্যালয় চালু হওয়াতে তারা খুশি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.হুমায়ুন কবীর বলেন, আমাদের অধিকাংশ বিদ্যালয়েই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা স্কুল খুলতে পারবো, আলোকদিয়াসহ কিছু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকেরা নিজেরাই অনেক উদ্যোগ নিয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বলেন,ইতিমধ্যে সরকারি ১৯ দফা বিষয়ে আমরা সভা করেছি, আমাদের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। আশা করছি সঠিক নিয়ম এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা বিদ্যালয় খুলতে পারব। 
 
 

Link copied!