• ঢাকা
  • বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১, ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ইউএনওর বাসভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১২


বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২১, ০৪:১৮ পিএম
ইউএনওর বাসভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১২

বরিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে কোতোয়ালি মডেল থানায়। একটি মামলার বাদী পুলিশ, অপরটির বাদী ইউএন।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ ভূঞা।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩০ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বাড়ি ঘিরে রাখে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডের সেরনিয়াবাত ভবনের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। পরে অবশ্য পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে চলে যান।

এদিকে মেয়রের বাসার সামনে জড়ো হতে শুরু করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তবে কী কারণে মেয়রের বাসা ঘিরে রাখা হয়েছে, তা জানা যায়নি।

বুধবার রাতে আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত জানান, রাতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে থানা কাউন্সিল এলাকায় সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা শোক দিবসের লাগানো ব্যানার খুলতে এলে ইউএনওর নেতৃত্বে তাদের বাধা দেন উপজেলা পরিষদের আনসার সদস্যরা। এ সময় আনসার সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। খবর পেয়ে শতাধিক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে।

ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের উদ্দেশে গুলি ছোড়ে। গুলিতে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ ৩০ নেতা-কর্মী আহত হন। একপর্যায়ে নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদ ভবনে প্রবেশ করে ইউএনও মুনিবুর রহমানের শাস্তি দাবি করে স্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ তাদের উদ্দেশে আবারও গুলি ছোড়ে।

এদিকে এই সংঘর্ষে পুলিশের দুই সদস্য আবু বকর ও শরিফুল আহত হন। তাদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান অভিযোগ করেন, শোক দিবস উপলক্ষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুকের ব্যানার-পোস্টার লাগানো ছিল। রাতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এই ব্যানার ছিঁড়তে আসেন। রাতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এসব ছিঁড়তে আসে। লোকজন ঘুমাচ্ছে জানিয়ে তিনি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বৃহস্পতিবার সকালে এগুলো ছিঁড়তে বলেন। ব্যানার ছিঁড়তে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে গালিগালাজ করেন। 

মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ছররা গুলি করা হয়েছিল। আমার গায়ে লেগেছিল, ব্যথা পেয়েছি। আমার গায়ে জ্যাকেট ছিল। সেসময় সঙ্গের লোকেরা আমাকে সুরক্ষা দিয়েছেন। তাদের গুলি লেগেছে। অনেকেই আহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে  কতজন, জানি না।

Link copied!