• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত 


কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২১, ০৮:৫৮ এএম
পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত 

দীর্ঘ প্রায় ৫ মাস পর আগামী ১৯ আগস্ট পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে সমুদ্র শহর কক্সবাজার। তবে অতিথি ও পর্যটকসংশ্লিষ্ট সবাইকে মানতে হবে কিছু শর্ত। তবু পর্যটন শিল্প খোলায় নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিঃসঙ্গ সমুদ্রসৈকত খুলছে। আবারও কোলাহল সৃষ্টি হবে সাগরপারে। যে সমুদ্রকে ঘিরে জীবনের এত আয়োজন, করোনা নামক অণুজীবের বিরুদ্ধে চলমান বিশ্বব্যাপী সংগ্রামে প্রায় ৫ মাস ধরে স্তব্ধ সেই সমুদ্রসৈকত। গত ১ এপ্রিল থেকে কক্সবাজার জেলার পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে।  

১৯ আগস্ট থেকে পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে। তবে ধারণক্ষমতার অর্ধেক দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিধিনিষেধ আর থাকল না। সমুদ্র শহর আবারও পর্যটকের কোলাহলে মুখরিত হবে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার বলেন, “প্রায় ৫ মাস লকডাউনের বেড়াজালে বন্দি থাকায় কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা বাধ্য হয়ে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মচারীদের ছাঁটাই করেছি। এই ক্ষত পোষাতে সময় লাগবে। তবু ১৯ আগস্ট থেকে যেহেতু পর্যটন খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে আমাদের চেষ্টা থাকবে ক্ষত দ্রুত সারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর।

প্রতিবছর ঈদ-পরবর্তী সময়ে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও গত দুই ঈদে করোনা রোধে লকডাউনের কারণে বন্ধ ছিল সব ধরনের পর্যটনকেন্দ্র। ফলে পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা প্রতিনিয়ত গুনছেন লোকসান।

কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, কলাতলি, হিমছড়ি, মেরিন ড্রাইভ, ইনানী, সেন্টমার্টিন, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারিপার্ক, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রামু ও টেকনাফের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটকে ঠাসা থাকলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে সব পর্যটনকেন্দ্রে সুনসান নীবরতা বিরাজ করছে।

কলাতলি গ্র্যান্ড স্যান্ডি হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান বলেন, “করোনার কারণে গত বছর পাঁচ মাস বন্ধ ছিল রিসোর্ট। এ বছরও প্রায় ৫ মাস বন্ধ। এবার ১৯ আগস্ট খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। আমরা শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চালু করব রিসোর্ট।”

জেলার পর্যটনের সঙ্গে  প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪ লাখ লোক জড়িত। বার্মিজ মার্কেট, শুটকি মহল, হোটেল মোটেল রেস্টুরেন্ট, পরিবহনসহ অন্যান্য খাতের ওই শ্রমিকরা লকডাউনে চরম কষ্টে দিনযাপন করেছেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার হোটেল মোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন, করোনাকালে যে ক্ষতি কক্সবাজারের পর্যটনের হয়েছে তা অপূরণীয়। বিশেষ করে শ্রমজীবীদের। ১৯ আগস্ট থেকে পর্যটন খোলায় এই সেক্টরের সবাই এখন স্বপ্ন বুনছে, দেখছে আশার আলো। আবারও অতিথিদের কোলাহলে মুখরিত হবে সমুদ্র শহর, এমন প্রত্যাশা সবার।”

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, “প্রজ্ঞাপনের শর্ত মেনেই ১৯ আগস্ট থেকে খুলে দেওয়া হবে পর্যটন। তবে সে ক্ষেত্রে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে অর্ধেক আসন ভাড়া দিতে পারবে। মানতে হবে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি।”

জেলা প্রশাসক আরও জানান, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের কী কী শর্ত মানতে হবে, কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে— এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জাতীয় শোক দিবসে কক্সবাজারে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকেই সকলকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। পর্যটন খুলে দেওয়ার পর কোনো প্রতিষ্ঠান যদি শর্ত না মানে কিংবা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Link copied!