• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১, ১০ মুহররম ১৪৪৫

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২২, ১২:৩৫ পিএম
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত

কুড়িগ্রামে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার অনেক নিচু ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার কৃষকরা। এসব এলাকার পাকা ও আধা পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চারিরা তাড়াহুড়ো করে ধান কেটে নিরাপদ স্থানে তুলছেন।

বুধবার (১৮ মে) সকালে জেলা সদরের যাত্রাপুর, শুলকুর বাজার, ঘোগাদহ, পাঁচগাছি ও চর কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক স্থানের পাকা ও আধা পাকা বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারণে নিরুপায় হয়ে নিজেরাই ফসল রক্ষায় কোমর পানিতে নেমে বোরো ধান কাটছেন। পরে তা নৌকা যোগে উঁচু স্থানে তুলছেন। কাজে সহযোগিতা করছেন পরিবারের নারী সদস্যরাও।

শুলকুর বাজারের কৃষক মনসুর আলী বলেন, “অধিকাংশ বোরো ধান পেকেছে। তবে এখনো কিছু কিছু ক্ষেতের বোরো ধান আধা পাকা রয়েছে। পাকা ধান কাটতে অনেকে পরিবারসহ ব্যস্ত সময় পার করছে। কিন্তু টানা দুদিনের বৃষ্টিতে আমাদের পাকা ও আধা পাকা বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।”

সদর উপজেলার ছত্রপুর জেলেপাড়া এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের টাকায় সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ২৯ জাতের বোরো ধান আবাদ করেছি। ধান পাকার আগেই পুরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই সেই ধান কেটে পানি থেকে তুলতেছি। তবে ক্ষেতের অর্ধেক ধানই পাতান পাওয়ার আশঙ্কা করছি।”

কুড়িগ্রামের পাঁচগাছি ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টির পানিতে আমাদের দশ শতক জমির বোরো পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় আমরা পরিবারের সবাই মিলে কষ্ট করে ধান কাটছি। নয়তোবা পুরো ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”

কুড়িগ্রামের আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবুর হোসেন জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলায় ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রশীদ বলেন, “দুই দিনের বৃষ্টিপাতে বোরো চাষিরা ধান কাটাতে কিছুটা সমস্যার মুখে পড়েছেন। ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে আবাদে তেমন ক্ষতি হয়নি।”

Link copied!