সাদমানের সেঞ্চুরি

২৭২ গুটিয়ে গিলো বাংলাদেশ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
২৭২ গুটিয়ে গিলো বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিনের শুরুটা হয়েছিল সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরির আনন্দ দিয়ে, শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসে। আগের দিন ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ২৭২ রানেই গুটিয়ে গেছে। অর্থাৎ দিনের শুরুতে ৫৯ রান যোগ করতেই হারিয়েছে ৭ উইকেট।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম ওভারেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাদমান। ওভারের দ্বিতীয় বলটি লেগ সাইডে ঠেলে দিয়ে ২ রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তাঁর সেঞ্চুরি আসে ২২০ বলে।

১৭ ইনিংস পর সেঞ্চুরির দেখা পেলেন সাদমান। সর্বশেষ ২০২৫ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন তিনি। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন এই ওপেনার।

সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাদমান। ৭৭ ওভারে ২২১ রানে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। অভিষিক্ত বিশপের বলে এলবিডব্লিউ হন সাদমান। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের পর রিভিউ নিলেও আলট্রাএজে কোনো স্পাইক পাওয়া যায়নি। বল ট্র্যাকিংয়েও দেখা যায়, সেটি মিডল স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে টেস্ট ক্রিকেটে বিশপের প্রথম উইকেটটি নিশ্চিত হয়।

সাদমান ফেরার পর আবার ব্যাটিংয়ে নামেন আগের দিন ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছেড়ে যাওয়া তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু কোনো রান যোগ করতে পারেননি তিনি। বিশপের বলেই বোল্ড হয়ে ৪২ রানে থামেন হৃদয়।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাস মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। দুজনের জুটিতে আসে ৩২ রান। তবে ৯০তম ওভারে জোমেল ওয়ারিক্যানের আর্ম বলে বোল্ড হয়ে ১৫ রানে ফেরেন মিরাজ।

নতুন বল হাতে নিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা চাপ ধরে রাখে। শামার জোসেফের ১৪১.২ কিলোমিটার গতির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৫ রানে ফেরেন নাঈম হাসান।

এরপর শামার জোসেফের দ্বিতীয় শিকার হন হাসান মাহমুদ। ৬ রান করে ফেরেন তিনি। এক প্রান্তে তখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন লিটন দাস।

তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে বাংলাদেশের। ওয়ারিক্যানের চতুর্থ শিকার হন তাইজুল ইসলাম। অফ স্টাম্পের বাইরে ভাসানো বলে ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগান তিনি। উইকেটকিপার আমির জাঙ্গু সহজ ক্যাচ নেন।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শরীফুল ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করেন ওয়ারিক্যান। তাঁর শিকার হন ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বিশপ ৬১ রানে ২টি এবং শামার জোসেফ ৪১ রানে ২টি উইকেট নেন।

বাংলাদেশের হয়ে সাদমান ১০৫, হৃদয় ৪২, লিটন ৩৪ অপরাজিত, মুমিনুল হক ২৮, নাজমুল হোসেন ১৯ এবং মিরাজ ১৫ রান করেন।

২৭২ রানে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে প্রথম ৪.৪ ওভারেই ২৯ রান তুলে নেয় তারা। তবে পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে ব্রেন্ডন কিংকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ। ১৫ রান করেন কিং।

এরপর তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জন ক্যাম্পবেল মিলে ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছেন। ১৫ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫২ রান। দ্বিতীয় উইকেটে এই জুটি ইতোমধ্যে যোগ করেছে ২৩ রান।

১৫তম ওভারের শেষ বলে ২২ রানে জীবন পান ক্যাম্পবেল। নিজের বলে সহজ ক্যাচটি নিতে পারেননি শরীফুল ইসলাম। এর আগে হাসান মাহমুদের বলে আরও একবার জীবন পেয়েছিলেন ক্যাম্পবেল। সেই ক্যাচটি ছেড়েছিলেন নাঈম হাসান। তখন ক্যাম্পবেলের রান ছিল ৫।

এদিকে ব্যাটিংয়ের সময় চোট পাওয়া লিটন দাসকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জাতীয় দলের ফিজিওথেরাপিস্ট বায়জেদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, লিটনের ডান কনুই থেঁতলে গেছে। তাঁর জায়গায় বদলি উইকেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাকের আলী।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস: ৯৭.৪ ওভারে ২৭২ (সাদমান ১০৫, হৃদয় ৪২, লিটন ৩৪*, মুমিনুল ২৮, নাজমুল ১৯, মিরাজ ১৫; ওয়ারিক্যান ৫/৫৩, বিশপ ২/৬১, শামার জোসেফ ২/৪১, চেজ ০/৫৩)।


 

Link copied!