জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় হারে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শুরুতেই ছিটকে যাওয়ার দশা বাংলাদেশের। প্রত্যেক দল গ্রুপ পর্বে খেলবে দুটি করে ম্যাচ, সেরা দুই দল যাবে ফাইনালে। প্রথম ম্যাচেই বিশাল ব্যবধানে হেরে গিয়ে রানরেটও তলানিতে, তাই ফাইনাল খেলাটা এখন স্রেফ অলৌকিক অঙ্ক।
আগে ব্যাট করা জিম্বাবুয়ে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৭১ রান। জবাবে বাংলাদেশ ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট। সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেছেন তানজিদ হাসান তামিম, ২৬ রান সাইফ হাসানের। ৪ উইকেট নিয়েছেন ব্র্যাড ইভানস, সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজার জোড়া শিকার।
আবুধাবিতে টস করতে গেলেন তাওহীদ হৃদয়। চোটের কারণে সিরিজই শেষ হয়ে গেছে লিটন দাসের, তার বদলে ওয়ানডে দলে যোগ দেবেন পারভেজ হোসেন ইমন। টসে হারলেন হৃদয়, জিম্বাবুয়ে নিল ব্যাটিং। শুরুতে তাসকিনের বলে মরুর আগুনে উত্তাপ। ২৪ রানেই ৩ উইকেট নেই জিম্বাবুয়ের, তিনজনই তাসকিনের শিকার। এরপরই টেলর ও আরভিনের প্রতিরোধের শুরু। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন দুজনই, সাইফ হাসানের পার্টটাইম অফস্পিনে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৮১ রানে বিদায় নিয়েছেন টেলর। ১০১ বল খেলে ১০ বাউন্ডারিতে এই রান করেছেন অবসর ভেঙে ফিরে আসা এই ব্যাটার। সেঞ্চুরি থেকে ৭ রান দূরে থাকতে উইকেটের পেছনে শরিফুল ইসলামের বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন আরভিন, তার ১০৬ বলে ৯৩ রানের ইনিংসে চারের মার ৯টি।
৫০ ওভারে ২৭২ রান, এই সময়ের ওয়ানডে ক্রিকেটে লক্ষ্যটা আয়ত্তের ভেতরেই। তবে দলটার নাম বাংলাদেশ, ব্যাটিং ব্যর্থতা এখানে নিয়মিত দৃশ্য। ব্যাটারদের ঠোঁটের আগায় থাকে দেশের মাটিতে খারাপ উইকেটে খেলার অজুহাত। ঠিক গত বছরের অক্টোবরেই এই আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। তিন ওয়ানডেতেই হেরে হোয়াইটওয়াশ, একটা ম্যাচেও পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি মেহেদী হাসান মিরাজের দলটা। এবার মিরাজ চোটের জন্য প্রথম ম্যাচের একাদশে নেই; তবে হৃদয় (১৩), সাইফ (২৬), নাজমুল হোসেন শান্ত (৪), নুরুল হাসান সোহানরা (৫) মিলেই ধরে রেখেছেন ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা। শেষদিকে রিশাদ (২৩) ও তাসকিন (১৬*) কিছুটা রান না করলে হারের ব্যবধানটা হতো আরও বড়।
অথচ একসময়ের ‘পরম বন্ধু’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেসেখেলেই জিতত বাংলাদেশ। তবে সাম্প্রতিকালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জেতাটাই হয়ে উঠছে দুঃসাধ্য। জুলাইতে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ, পরের ম্যাচে সান্ত্বনার জয় পেলেও ফের দেখায় আবার হারিয়ে দিল জিম্বাবুয়ে।





















