ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।
গত বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ি নৌঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় মরদেহটি।
উত্তরখান থানা পুলিশ ও নৌপুলিশের সদস্যরা মরদেহটি তাদের হেফাজতে নেন।
এসব তথ্য জানিয়েছেন গাজীপুরের টঙ্গী নদীবন্দর এলাকার নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফিরোজ উদ্দিন।
ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ খবর পেয়ে গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে টঙ্গী ফাঁড়ির নৌ পুলিশ তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাহসিফের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে বলে উল্লেখ করেন নৌ পুলিশের কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন। তিনি বললেন, তাহসিফ সপরিবার উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত মঙ্গলবার তিনি নিখোঁজ হন। তার বাবার নাম কে এম এনায়েত হেলাল।
নৌ পুলিশ জানায়, নিহতের পরনে সাদা পায়জামা ও কালো জামা ছিল। হাতে ঘড়ি ও পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। মুখে হালকা দাড়ি আছে। তার সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
সাবেক এ বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় তাহসিফের নাম আলোচনায় এসেছিল।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাহসিফের কলেজ ও বিএমএ-এর কোর্সমেট কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম তার ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গত পরশু রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাউসিফ নিখোঁজ ছিলেন।’ মরদেহের ছবিতে হাতে কাদা মাখা থাকলেও শরীরের বাকি অংশ পরিষ্কার ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইনতিসার দাবি করেন, এটি যদি দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত কোন্দল বলে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত না হয়, তবে তিনি এটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখছেন। তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের ভিডিও ফাঁসের পর তাহসিফ নানাভাবে মানহানির শিকার হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশি মামলা ছিল না।

















