কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়।
গত মঙ্গলবার দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, মামলার তদন্তে চার আসামির বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে।
তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আছে।
এর আগে গত শনিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
নিহত অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তবে মামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো তার জানা নেই। তিনি দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকরের প্রত্যাশা করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিস্তারিত জানতে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ড দেশ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে আসে। এরপর কুমিল্লা জুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশ, যা এখনো অব্যাহত।























