টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ

শেষ পর্যন্ত হেরে গেল নেপালিরা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
শেষ পর্যন্ত হেরে গেল নেপালিরা

সেই ‘সমুদ্র’কে সাক্ষী রেখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কী লড়াইটাই না উপহার দিল নেপাল। ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম অঘটন উপহার দিতে দিতেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেল নেপালিরা। ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮০ রানে থেমে ৪ রানে হেরেছে দলটি।

নেপাল জিতলে নায়ক হতেন লোকেশ বাম। ২০ বলে ৩৯ রান করে ইংল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত অস্বস্তিতে রেখেছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। শেষ বলে ছক্কার সমীকরণ মেলাতে হতো তাঁকে। কিন্তু স্যাম কারেনের অভিজ্ঞতার কাছেই হার মানতে হলো তাঁকে।

শেষ ওভারে ১০ রান দরকার ছিল নেপালের। ইংলিশ বাঁহাতি পেসার কী দুর্দান্ত বোলিংই না করলেন। লাইন-লেংথ ঠিক রেখে দিলেন মাত্র ৫ রান। ফল, ৪ রানের জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল দুবারের চ্যাম্পিয়নরা।

লোকেশ শেষ দিকে ৪ চার ও ২ ছক্কায় নেপালকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছেন দীপেন্দ্র সিং ঐরী ও রোহিত পৌডেলের গড়ে দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে। ৪২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে ৫৪ বলে ৮৪ রান যোগ করেন দুজন।

নেপাল ১৫তম ওভারটা শুরু করে ৬ ওভারে ৬২ রানের হিসাব মেলানোর সমীকরণ নিয়ে। কাজটা কঠিন। তবে তখনো যে টিকে ছিলেন ঐরী, টি-টুয়েন্টি ইতিহাসের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটা যাঁর দখলে। ২০২৩ এশিয়াডে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৯ বলে ফিফটি করে যুবরাজ সিংয়ের রেকর্ড কেড়েছেন যিনি।

পরের ২ ওভারে আবার বদলে গিয়েছিল সব। স্যাম কারেন ঐরীকে (২৬ বলে ৪৪) ফেরানোর পর লিয়াম ডসন ফেরালেন পৌডেলকে (৩৪ বলে ৩৯)। ২ উইকেটে ১২৪ থেকে মুহূর্তেই নেপাল ৪ উইকেটে ১২৬।

নেপাল আর পারছে না ভেবে যাঁরা খেলা দেখা বন্ধ করেছিলেন, তাঁদের আবার ফেরত আনেন লোকেশ। ১৭তম ওভারে কারেনকে টানা দুটি চার মারা লোকেশ পরের ওভারে জফরা আর্চারকে মারেন টানা দুটি ছক্কা। লুক উডের করা ১৯তম ওভারেও দুটি চার মেরে শেষ ওভারে সমীকরণটাকে ১০ রানে নামিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নায়ক হওয়া হলো না লোকেশের।

এর আগে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে জ্যাকব বেথেল ও হ্যারি ব্রুকের জোড়া ফিফটির পর উইল জ্যাকসের বিধ্বংসী ক্যামিওতে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান তোলে ইংলিশরা।

নেপালি বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে চেপে ধরার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বিশেষ করে শেষ ওভারে করণ কেসির ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দেন জ্যাকস। তিনটি বিশাল ছক্কায় ওই ওভার থেকে ২১ রান তুলে ইংল্যান্ডকে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এনে দেন এই অলরাউন্ডার। ১৮ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন জ্যাকস।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। আগের রাতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ যে পিচে হয়েছিল, এই ম্যাচও সেখানেই। টসের সময় নেপাল অধিনায়ক রোহিত পৌডেল জানান, টসে জিতলে তিনিও আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতেন। তাঁর স্পিননির্ভর বোলিং আক্রমণ ইনিংসের অনেকটা সময় ইংল্যান্ডকে বেশ চাপে রেখেছিল।

ইনিংসের প্রথম বলেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। স্পিনার শের মাল্লার বলে টপ-এজ হয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার ফিল সল্ট। তবে তিনে নামা জ্যাকব বেথেল শুরু থেকেই ছিলেন মারমুখী। মাল্লার ওই ওভারেই দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার করে দেন এই বাঁহাতি। জস বাটলার ২৬ রান করে নন্দন যাদবের উইকেটে পরিণত হওয়ার আগে বেথেলের সঙ্গে দ্রুত রান তোলেন।

এক প্রান্ত আগলে রাখা বেথেল মাত্র ২৮ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন। টম ব্যান্টন দ্রুত বিদায় নিলেও অধিনায়ক ব্রুককে নিয়ে ইনিংস গড়েন বেথেল। তৃতীয় উইকেটে এই জুটি স্কোরবোর্ডে ৭১ রান যোগ করেন। দলীয় ১২তম ওভারে ইংল্যান্ড ১০০ রানের গণ্ডি পার করে। ৫৫ রান করে আউট হওয়া বেথেলের  ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছক্কার মার।

এরপর স্যাম কারেন ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি, দীপেন্দ্র সিং ঐরীর বলে বোল্ড হন মাত্র ২ রান করে। ব্রুক অবশ্য অন্য প্রান্তে সাবলীল ছিলেন। ৩১ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করার ঠিক পরের বলেই সীমানায় ধরা পড়েন তিনি। ১৫৭ রানে ৬ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড তখন বড় সংগ্রহের শঙ্কায় ছিল। কিন্তু শেষ ১০ বলে দৃশ্যপট বদলে দেন উইল জ্যাকস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮৪/৭ (বেথেল ৫৫, ব্রুক ৫৩, জ্যাকস ৩৯*, বাটলার ২৬; ঐরী ২/২৩, নন্দন ২/২৫)।
নেপাল: ২০ ওভারে ১৮০/৬ (ঐরী ৪৪, পৌডেল ৩৯, লোকেশ ৩৯*, ভুরতেল ২৯; ডসন ২/২১)।
ফল: ইংল্যান্ড ৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: উইল জ্যাকস।

Link copied!