• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১, ১২ মুহররম ১৪৪৫

আমাদের দাঁড়াতে হবে সব রকম জবরদস্তির বিরুদ্ধে


আনু মুহাম্মদ
প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২২, ০৮:৪১ এএম
আমাদের দাঁড়াতে হবে সব রকম জবরদস্তির বিরুদ্ধে

বিভিন্ন দেশে নারীর পোশাক, চলাফেরা, কথা বলা, হাসি-আনন্দ নিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগোষ্ঠীর কিছু পুরুষের মধ্যে (সাথে কিছু নারীর মধ্যেও) বিশেষ মাথাব্যথা দেখা যায়। এসব পুরুষ নিজেদের সকল নারীরই অভিভাবক মনে করেন এবং ঘরে-বাইরে পথে-ঘাটে বাসে লঞ্চে সভা সমাবেশে সুযোগ পেলেই বিভিন্ন নারীর প্রতি ঘৃণামিশ্রিত বাক্যবর্ষণ করেন। অন্য ধর্মের বা জাতির মানুষদের প্রতি প্রবল বিতৃষ্ণায় নারীর পোশাক সজ্জাও রাজনীতির অস্ত্র হয়ে ওঠে। বাঙালি মুসলিম সমাজে যেসব ভীতিকর বা বিদ্বেষমূলক প্রচার ব্যাপক আকার নিচ্ছে, তার মধ্যে এখন অন্যতম হলো নারীর পোশাক ও সচলতা, ‘হিন্দুয়ানী’ আখ্যা দিয়ে কপালে টিপ, শাড়িবিরোধী কথাবার্তাও জোরদার হচ্ছে।

আসলে একেকটি অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা থেকে কেউ বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। বাঙালি মুসলমান যখন খেতে বসেন, তখন যা যা তার পছন্দ—মাছ শাকসবজি, ভাত, খিচুড়ি, ভর্তা, ভাজি, দই, মিষ্টি, পিঠা কি বাঙালি হিন্দুদেরও পছন্দের খাবার নয়? তাহলে এগুলো কি মুসলমানি না হিন্দুয়ানি? এসব খাবার হিন্দুয়ানি বলে বাদ দিয়ে আরব বা পশ্চিমা বা অন্য কোনো দেশের খাবার দিলে বাঙালি মুসলমানের কদিন তা ভালো লাগবে? তাহলে হিন্দুয়ানি কী? কপালে টিপ? কজন হিন্দু নারী কপালে টিপ দেন? বাঙালি ছাড়া আর খুব কম অঞ্চলেই হিন্দু নারীর কপালে টিপ দেখা যায়। দক্ষিণ ভারতের নারীরা সব সময় চুলে ফুল লাগিয়ে রাখেন। চুলে ফুল দেওয়া কি তবে হিন্দুয়ানি? জল বলা? দাদা, মাসি, পিসি, দিদি বলা? শাড়ি পোশাক? উত্তর ভারতে কামিজ-পায়জামা নারীর সাধারণ পোশাক। সেটা কি হিন্দুয়ানি? জল বলেন কেবল ভারতের বাঙালিরা। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের হিন্দু সমাজে পানি, আপা, আম্মা, ভাবি, খালা, ভাইয়া বলা হয়। হিন্দু নারীও মাথায় ঘোমটা দেন, পর্দা বিভিন্ন ধর্মের নারীর মধ্যেই আছে। তাহলে এগুলো কী? 

কারও ক্ষতি না করে, জবরদস্তি না করে ‘হিন্দুয়ানি’ পোশাক সজ্জা আচার কারও যদি ভালো লাগে, কিংবা কারও যদি ‘ইসলামি’ পোশাক অনুষ্ঠান নিয়মকানুন ভালো লাগে তাহলে তার ওপর আক্রোশ বর্ষণ আর খবরদারি করার অধিকার কে কাকে দেয়? মনের ভেতর অন্যের সংস্কৃতির প্রতি প্রবল বিদ্বেষ আর অশ্রদ্ধা থাকলে, বৈচিত্র্য আর সৌন্দর্যবোধের সংকট থাকলে, এবং/অথবা নারীর সবল উপস্থিতির ভীতিতে কাবু পুরুষতন্ত্রের যাতনা থাকলেই কেবল এ রকম ভাব-ভাষা আসে। 

আমাদের দাঁড়াতে হবে সব রকম জবরদস্তির বিরুদ্ধে, দাঁড়াতে হবে মানুষের আনন্দ আর স্বস্তির পক্ষে।

Link copied!