শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজন ভারতে গ্রেপ্তার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজন ভারতে গ্রেপ্তার

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। রোববার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়—বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধ করার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনায় বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এসটিএফ জানায়, তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বনগাঁ এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন পটুয়াখালীর রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং ঢাকার আলমগীর হোসেন (৩৪)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করেন এবং পরে পালিয়ে যান। তাঁরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার পর শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অবস্থান নেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসা।

স্পেশাল টাস্ক ফোর্স জানায়, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার তাঁদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এ লক্ষ্যে তিনি কিছুদিন ধরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত বছর ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি মারা যান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন। সেই রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)-এর নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলি করেন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীরের পাশাপাশি সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলামও ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা।

Link copied!