বিএনপির ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
বিএনপির ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটি এই ইশতেহার প্রকাশ করে। ইশতেহারে মোট নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা জানান, এই ইশতেহার শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়; বরং এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির রূপরেখা।

ইশতেহারে উল্লেখ করা নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো—

১. ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু:
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর আওতায় প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে।

২. কৃষক কার্ড ও কৃষি সহায়তা:
কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। একই সুবিধা পাবেন মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষিখাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।

৩. স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন:
দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার:
আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৫. তরুণদের কর্মসংস্থান:
তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

৬. ক্রীড়ার উন্নয়ন:
ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা:
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি:
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালু করার কথা বলা হয়েছে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ:
ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলেন, এই ইশতেহার প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ন্যায়, মানবিকতা ও জনগণের অধিকারভিত্তিক রাজনীতির ঘোষণা। দলটি ক্ষমতার চেয়ে জনগণের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেয়।

জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। এমন একটি রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, যেখানে প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে—সবার আগে বাংলাদেশ।

Link copied!