• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১,

নিত্যপণ্য : স্বস্তি ফেরেনি অজুহাতের বাজারে


জাহিদ রাকিব
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৩, ০৯:৩৬ পিএম
নিত্যপণ্য : স্বস্তি ফেরেনি অজুহাতের বাজারে
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজির দোকান। ছবি-সংবাদ প্রকাশ

দেশের বাজারে এখনো ঊর্ধমুখী সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। একের পর এক ব্যবসায়ীদের নানা অজুহাতেই কেবল দাম বাড়ছে। উচ্চমূল্যের এই বাজারে স্বস্তি নেই নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের। মাছ-মাংসের দাম নাগালের বাইরে গেছে আরও আগে। এখন সবজিতেও অজুহাতের ধান্দা জুড়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, কার্প জাতীয় যেসব মাছ নিম্নআয়ের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর ভরসা ছিল সেগুলির দামও এখন বেশি। সবজি, মাছ, মাংস ও ডিম ক্রয় করতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে কম দামে যে সবজি বিক্রি হচ্ছে সেটির দামও এখন ৫০ টাকা। মাসের ব্যবধানে পেয়াঁজের দাম হয়েছে দ্বিগুণ। প্রতিকেজি দেশি পেয়াঁজের দাম এখন ৯০ টাকা। বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির অজুহাতে পাইকারি মার্কেট কারওয়ান বাজারেও সব সবজির দাম বেড়ে গেছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম তো আগে থেকেই বাড়তি।

দুই দিনের ব্যবধানে এই পাইকারি বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। ফুলকপি ৮০ টাকায়, গাজর ৭০ টাকায়, শসা ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মাঝারি গোছের একটি লাউ।

মাছ বাজারের চিত্রও একই রকম। আকারভেদে রুই-কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। চাষের নলা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং সিলভার কাপ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি ছোট আকারের ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, মাঝারি আকারের ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা, আর বড় আকারের হলে ১২০০ টাকা।

এছাড়া ৮০০ গ্রামের ইলিশ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, দেশি পুঁটি মাছ ৮০০ টাকা, টেংরা ৫০০ টাকা, কই ২৬০ টাকা, পাবদা ৪৫০ টাকা, টাটকিনি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৮০ টাকা, কক মুরগি ৩০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা।

গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের মুরগির লাল ডিম প্রতিটি ১২ টাকা, হালি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, ডজন ১৪৫ টাকা, ফার্মের সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন, হাঁসের ডিম ২২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।

চালের দোকান ঘুরে দেখা যায়, নাজিরশাহ চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিআর-২৮ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা। পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা, মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে৭০ টাকা। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৮ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “তিন দিন আগে বিআর-২৮ চাল কিনেছেন প্রতি কেজি ৫২ টাকা দরে, এখন ৫৫ টাকা। স্বর্ণা চালের সরবরাহ না থাকায় প্রভাব পড়েছে অন্যান্য মোটা চালের দামেও। বেড়েছে পাইজামের দাম।” 

তিনি আরও বলেন, “সরু চালের দাম বাড়েনি। এখন মিনিকেট ৬৮ থেকে ৭০ টাকা ও নাজিরশাহ ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও একই ছিল।”

মুদি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বড় ভারতীয় রসুনের কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা, ছোট দেশি রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা, আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭৯ টাকা, চিনি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে ডিম কিনতে আসা ক্রেতা খালেকুজ্জামান সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “প্রতিদিন সকালের নাশতায় ডিম তো নিয়মিত খাবার। এছাড়া অন্যান্য সময়েও খাওয়া হয়। কিন্তু যেভাবে দাম বাড়ছে তাতে ডিম খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে।”

কারওয়ান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসা সোহাগ হোসেন সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “বাজারে সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়েছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। দাম বাড়ার কারণে অল্প অল্প করে কিনছি। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।”

আরেক ক্রেতা শফিকুল সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “শুধু নিত্যপণ্যের দামই বাড়েনি। বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে পানি ও বিদ্যুৎ বিল সবকিছুই বেড়েছে। বাসভাড়া বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি শুধু আমাদের বেতন।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে দাম বাড়ানো হয়, কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশে দাম কমলে একবার বেড়ে যাওয়া জিনিসের দাম আমাদের দেশে আর কমে না।”

কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আলমিন সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “কাঁচাবাজার সকালে এক দাম আবার বিকেলে আরেক দাম। বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এখন সবজির আমদানি কম হচ্ছে। সবকিছুর দাম একটু বাড়তি, তবে আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আলুর দাম আবার একটু বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে একটু কম ছিল।”

Link copied!