• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৩ মুহররম ১৪৪৫

পশুর চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ করবেন যেভাবে


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৪, ০৩:৪৭ পিএম
পশুর চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ করবেন যেভাবে

পশুর চামড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় সম্পদ। একই সঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া শিল্প। আর এই শিল্পের সবচেয়ে বেশি যোগান আসে ঈদুল আজাহা বা কোরবানির ঈদে। তবে পশুর এই চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো ও সংরক্ষণ করা না গেলে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) কোরবানির সময়ে কাঁচা চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে আসছে।

শনিবার (১৫ জুন) রাজধানীর কমলাপুরের গোলাপবাগ গবাদি পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, বিসিকের পক্ষে স্কাউট সদস্যদের পশুর চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করার চিত্র।

বিতরণকৃত লিফলেটে পশুর চামড়া ছাড়ানোর পদ্ধতি উল্লেখ করে ৮টি নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, “পশু জবাই করার ২ ঘণ্টা আগে থেকে পশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করালে চামড়া ছাড়ানো সহজ হয়। এ ছাড়া চামড়া ছাড়ানোর শুরুতেই পশুর সামনের এক পা থেকে বুকের ওপর দিয়ে সামনের অন্য পা পর্যন্ত এবং পেছনের এক পা থেকে লেজের গোড়া হতে প্রায় ৪-৬ ইঞ্চি ওপর দিয়ে পেছনের অন্য পা পর্যন্ত আড়াআড়ি ভাবে কাটতে হবে, এরপর আড়াআড়ি ভাবে বুকের ওপর দিয়ে গলা থেকে মলদ্বার পর্যন্ত কাটতে হবে, চামড়া আড়াআড়ি ভাবে কাটার পর চামড়া ছাড়ানো শুরু করতে হবে। চামড়া আড়াআড়ি ভাবে কাটার ক্ষেত্রে সুচালো মাথার ছুরি এবং চামড়া ছাড়ানোর জন্য বাঁকানো মাথার ছুরি ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফ্লে-কাট ত্রুটি এড়ানোর জন্য দক্ষ ব্যক্তির সতর্কতার সাথে ও সঠিক ছুরি ব্যবহার করে চামড়া ছাড়াতে হবে, পশু জবাইয়ের পর রক্তমাখা ছুরি কোনোভাবেই পশুর চামড়ায় মোছা এবং ছাড়ানো চামড়া মাটিতে ছেঁচড়ানো যাবে না, ছাগল বা ভেড়ার ক্ষেত্রে গাছের শক্ত ডাল বা এরূপ কিছুর সাথে ঝুলিয়ে হাতের সাহায্যে টেনে টেনে চামড়া ছাড়াতে হবে।”

এদিকে চামড়া সংরক্ষণ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, “চামড়া ছাড়ানোর পর চামড়ায় লেগে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ও মাংস বাঁকানো ছুরির সাহায্যে সতর্কতার সাথে পরিষ্কার করে রক্তসহ অন্যান্য ময়লা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি চামড়ায় লবণ প্রয়োগের পূর্বে পরিষ্কার করা চামড়া থেকে পানি ঝরিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে, এরপর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের জন্য চামড়ার মাংস অর্থাৎ ভেতরের অংশে সর্বত্র ২-৩ মিমি পুরুত্বের মুঠো মুঠো লবণ সমভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে, চামড়া ছাড়ানোর পর ফেলে না রেখে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই লবণ প্রয়োগ সম্পন্ন করতে হবে, প্রথমবার চামড়া লবণ শুষে নিলে প্রয়োজনে পুনরায় আরেক স্তর লবণ দিতে হবে, সাধারণত গরু ও মহিষের প্রতিটি চামড়ার ক্ষেত্রে ৮-১০ কেজি এবং ছাগল ও ভেড়ার প্রতিটি চামড়ার ক্ষেত্রে ৩-৪ কেজি লবণ প্রয়োগ করতে হবে, এক জোড়া চামড়ার লবণ দেওয়া অংশ মুখোমুখি (ফ্লেশ টু ফ্লেশ) অর্থাৎ লোমযুক্ত অংশ বাইরের দিকে রেখে ঢিবির মতো মাঝখানে কিছুটা উঁচু করে সর্বোচ্চ ১ মিটার উচ্চতায় স্তূপাকারে সংরক্ষণ করতে হবে, স্থানীয়ভাবে লবণ লাগানো চামড়া সংরক্ষণের জন্য শুষ্ক ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রয়েছে এমন ঘর নির্বাচন করতে হবে, সংরক্ষণাগারে বৃষ্টির পানি প্রতিরোধী ব্যবস্থা থাকতে হবে, খোলা জায়গায় চামড়া সংরক্ষণ করা যাবে না । 
 

Link copied!