• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১, ৬ শাওয়াল ১৪৪৫
ঈদের পোশাক

দর কষাকষিতেই ‘দমবন্ধ’


মো. মির হোসেন সরকার
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৪, ০৯:৫৫ পিএম
দর কষাকষিতেই ‘দমবন্ধ’
ঈদের কেনাকাট। ছবি : সংবাদ প্রকাশ

আফজাল শেখ। রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। দুই সন্তান ও স্ত্রীসহ চারজনের সংসার তার। এবারের ঈদে পরিবারের সদস্যদের পোশাক কিনতে গিয়ে পড়েছেন বড় দুশ্চিন্তায়। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসারে খরচ বেড়েছে, তার ওপর ঈদের পোশাকের বাড়তি দাম তাকে দুর্ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। স্ত্রী, সন্তানদের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে আফজাল শেখ এসেছেন রাজধানীর উত্তরার আজমেরি কমপ্লেক্সে। ঘণ্টা দুয়েক ধরে ঘুরছেন এ দোকান থেকে সে দোকানে। দর কষাকষি করতে গিয়ে অনেকটা দমবন্ধ অবস্থা তার।

জানতে চাইলে আফজাল শেখ সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “ঈদ এমন সময় এসেছে যখন সংসার চালানোই খুব কঠিন। এর মধ্যে দোকানিরা পোশাকের দাম এতো বেশি হাঁকাচ্ছেন যে সন্তানদের জন্য ভালো পোশাক কেনা যাচ্ছে না। দরদাম করতে করতেই সময় যাচ্ছে। ফলে কম দামের পোশাক কেনা ছাড়া উপায় নেই। কারণ মাস তো সবে শুরু। সব টাকাই যদি পোশাক কেনায় শেষ করি গোটা মাস চলবো কীভাবে”?

শুধু আফজাল শেখই নন, তার মতো অনেকেই এবারের ঈদের বাজারে পোশাক কিনতে গিয়ে পড়েছেন বিপাকে। বাড়তি দামে দুশ্চিন্তা যেমন কাটছে না, তেমনি প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটাও করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে ফুটপাতে কম দামের পোশাক কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঈদের কেনাকাট। ছবি : সংবাদ প্রকাশ

এমনি একজন ক্রেতা আমেনা বেগম। সংবাদ প্রকাশককে তিনি বলেন, “মার্কেটে পোশাকের দাম সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। একটা জামা কিনতে গেলে হাজারের বেশি দাম চেয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। দর কষাকষি করেও লাভ নেই। এক একটা পাঞ্জাবি হাজারের ওপরে বিক্রি হচ্ছে। যা সাধ্যের বাইরে। একদিকে মার্কেটের দামের গরম আর অন্যদিকে রোদের ভ্যাপসা গরমে ক্রেতারা অতিষ্ঠ’।

সরেজমিনে রাজধানীর বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এতটাই উপচেপড়া ভিড় যে পা ফেলার জায়গা নেই। ক্রেতারা পছন্দের পোশাক কিনতে দোকানগুলো চষে বেড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। মার্কেটে ক্রেতাদের বসার বা বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থাও নেই। ভবনের সিঁড়িতে বসেই বিশ্রাম নিতে দেখা যায় অনেককে।

পোশাক ব্যবসায়ীরা জানালেন, গেল দুই মাসে পোশাকের দাম যতটা বেড়েছে তা এক বছরেও বাড়েনি। সাধারণ মানুষের হাতে টাকা না থাকায় বেচাকেনায় অনেকটা ভাটা পড়েছে। মার্কেটে প্রচুর মানুষ এলেও বিক্রি কম। ক্রেতারা দরদাম করতে করতেই সময় পার করছেন। বেশিরভাগ ক্রেতা ফুটপাতে নেমে কেনাকাটা করছেন। বাইরে থেকে মার্কেটগুলোতে ‍উপচেপড়া ভিড় দেখা গেলেও ক্রেতার সংখ্যা খুব কম। ফলে ঈদ ঘিরে ব্যবসায়ীদের যে টার্গেট তা পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার তিনশ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। পাকিস্তানি থ্রি-পিস এক হাজার দুশ থেকে দুই হাজার টাকা, ভালো মানের পাঞ্জাবি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা, ছোটদের পাঞ্জাবি সাতশ থেকে দেড় হাজার টাকা, বড়দের জিন্স প্যান্ট এক হাজার থেকে এক হাজার সাতশ টাকা পর্যন্ত বেচাবিক্রি হচ্ছে। যে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

ঈদের কেনাকাট। ছবি : সংবাদ প্রকাশ

আজমেরি কমপ্লেক্সের পোশাক ব্যবসায়ী আজাদ সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “ঈদ সামনে রেখে পোশাকের দাম আগেই একবার বেড়েছে। রমজানে আরেক ধাপ বাড়িয়েছেন বিক্রেতারা। যার প্রভাব গিয়ে পড়েছে বেচাকেনার ওপর। পোষাক কিনতে এসে দামদর করে অনেকেই এ দোকান থেকে সে দোকানে ঘুরতে থাকেন। আজাদ আরও বলেন, মানুষের হাতে টাকা কম থাকায় বেশি দামের পোশাক কিনতে পারছেন না। এতে দামি দামি পোশাক দোকানে তুলে লোকসান গুনতে হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।”

আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী বললেন, “সাধারণ ক্রেতারা দেড় হাজার টাকার বেশি দামে পোশাক কিনতে চাচ্ছেন না। অথচ এর চেয়ে বেশি দামের পোশাক তোলা হয়েছে দোকানগুলোতে। ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে কম দামের পোশাক কেনার জন্য ফুটপাতের দিকে ঝুঁকছেন।”

ব্যবসায়ী আজাদ জানালেন, গেল ঈদে দিনে এক থেকে দেড় লাখ টাকার পোশাক বিক্রি করা কোনো ব্যাপারই ছিল না। কিন্তু এবার পঞ্চাশ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি করাই কঠিন। অন্যদিকে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা দিনে পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি পোশাক বিক্রি করছেন। বেশি দামের পোশাক তুলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লেও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।

Link copied!