ভোটকেন্দ্রে যেসব কাজ করতে পারবেন না পুলিশ সদস্যরা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
ভোটকেন্দ্রে যেসব কাজ করতে পারবেন না পুলিশ সদস্যরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য কঠোর আচরণবিধি জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ২২ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র নিশ্চিত করেছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো পুলিশ সদস্য কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা সমর্থকদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করতে পারবেন না। ব্যক্তিগত পছন্দ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক পোস্ট বা মন্তব্য করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।

ভোটারদের কোনো বিশেষ প্রতীকের পক্ষে প্রভাবিত করা যাবে না। এমনকি ভোটের ফলাফল বা সম্ভাব্য বিজয়ী সম্পর্কে কোনো পূর্বানুমান করা থেকেও বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বলপ্রয়োগ ও আচরণ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে কোনোভাবেই বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ করা যাবে না। ভোটার বা কর্মকর্তাদের কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করা যাবে না। গালিগালাজ, হুমকি বা অবমাননাকর আচরণ থেকে দূরে থাকতে হবে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না।

উপঢৌকন ও খাবার গ্রহণ নিষিদ্ধ
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রার্থী, এজেন্ট বা সমর্থকের কাছ থেকে খাবার, উপঢৌকন বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলা বা ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতাও অপেশাদার আচরণ হিসেবে গণ্য হবে।

এমনকি ফুটপাত বা টং দোকানে বসে খাবার খাওয়া এবং জনসমাগমস্থলে বাদাম, চানাচুর বা ভাপা পিঠার মতো মুখরোচক খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ
দায়িত্ব পালনের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য বা ভিডিও কারও কাছে পাঠানো যাবে না।

শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব
একত্রে জড়ো হয়ে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি বা ব্যক্তিগত আলাপে মশগুল হওয়া যাবে না। পুলিশ সদস্যদের সব সময় সতর্ক, পেশাদার এবং নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই কঠোর আচরণবিধি মেনে চলার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে আগামীকালের নির্বাচন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Link copied!