চট্টগ্রাম বন্দর পুনরায় স্বাভাবিক কার্যকলাপ শুরু করেছে। জেটি থেকে কনটেইনার নামচি ও নামানোর কাজ চালু হয়েছে, আর বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তরও ধারবাহিকভাবে চলতে শুরু করেছে। কনটেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি কনটেইনার এনে জাহাজে তুলার কাজও আবার শুরু হয়েছে।
বন্দরটির কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার সকাল আটটায় স্বাভাবিকভাবে ফিরেছে। তবে গত শুক্রবার তিনটি প্রধান টার্মিনাল—জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম ধর্মঘটের আগে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। আজ থেকে এসব টার্মিনালে পুনরায় জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য নামানোর কাজ শুরু হয়েছে।
ধর্মঘট আরম্ভ হওয়ার আগে “নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল” আগাম ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ রোববার সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট শুরু করেছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে কোনো চুক্তি না হওয়ার ঘোষণা আসায় রোববার গভীর রাতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ধর্মঘট চলাকালে বহির্নোঙরে ৬৫টি বড় জাহাজে কাজ সম্পূর্ণ থামায়, যা পরে স্থগিত হলে পুনরায় লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দরের সংশ্লিষ্টরা। আন্দোলনকারী সংগঠনটি রোববার রাত ১০টায় চলমান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল; তবে পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রোজার পণ্য খালাসের স্বার্থে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত রাখার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি পুনরায় কর্মসূচি ঘোষণা করাও হতে পারে বলে জানানো হয়।
সংগঠনের নেতারা বলেছেন, অচলাবস্থা কাটিয়ে বন্দরে কাজ স্বাভাবিক হয়েছে। ইজারা প্রসঙ্গে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ড এর কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবির প্রেক্ষিতে প্রথমে তিন দিন আটঘণ্টা করে কর্মবিরতি চলছিল, এরপর গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। নৌপরিবহন উপদেষ্টা–সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত থাকলেও পরে নেতৃবৃন্দের দাবি ও অনড় অবস্থানের কারণে রবিবার থেকে ধর্মঘট চলেছিলেন।































