ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও কৌশলগত টানাপোড়েন অবসানের পথে। ভারতের পণ্য আমদানিতে আরোপিত ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি, যা আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হচ্ছে।
ইরান-মার্কিন বৈঠক: আলোচনাকে ‘ভালো শুরু’ বলছেন আব্বাস আরাঘচি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা নির্বাহী আদেশে দাবি করা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ভারত সরাসরি কিংবা পরোক্ষ-কোনোভাবেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারবে না।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি সফল হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবেই নয়াদিল্লিকে এই শর্ত দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য কেনার অঙ্গীকার করেছে ভারত।
নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে উভয় দেশ একটি বিশেষ কাঠামোতে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত এখন সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এর আগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে তিনি জ্বালানি বা রুশ তেল আমদানির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি নিয়ে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল, শুল্ক প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তে তার একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।































